তিন মিনিটের কিলিং মিশনে ছাত্রলীগ নেতা ইমনকে খু’ন করা হয়ঃ র‌্যাব

ছবি:সিপ্লাসটিভি.নিউজ
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

কক্সবাজার ব্যুরোঃ কক্সবাজারের চাঞ্চল্যকর ইমন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামী আব্দুল্লাহ খান (২৭) কে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামী আব্দুল্লাহ খান স্বীকার করেছেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ২-৫ জনের একটি দল কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে ছাত্রলীগ নেতা ইমনকে হত্যা করা হয়। এতে সময় লাগে ২ থেকে ৩ মিনিট।

রবিবার বিকালে র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সহকারী পুলিশ সুপার নিত্যানন্দ দাশ এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।তিনি জানান, রবিবার (২৪ জুলাই) টেকনাফ উপজেলার কচুবনিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল্লাহ খান কক্সবাজার শহরের পেশকারপাড়া খাইরুল আহমদের ছেলে। এসময় নিহত ইমনের ব্যবহৃত একটি মোটর সাইকেল উদ্ধার করা হয়। নিত্যানন্দ দাশ আরও জানান, গত ২১ জুলাই রাতে কক্সবাজার শহরের পেশকারপাড়া এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে কক্সবাজার পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের ছাত্রলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ইমন হাসান মাওলা (২৪) খুন হয়। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল খান ওরফে আবদুল্লাহ খান (২৭) তার কয়েকজন সহযোগীসহ ইমনের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। একপর্যায়ে তারা ইমনকে উপর্যুপুরি ছুরিকাঘাত করে এবং ইমনের সাথে থাকা মোটর সাইকেল নিয়ে আব্দুল খান ওরফে আব্দুল্লাহ খান পালিয়ে যায়।

পথচারীরা গুরুতর আহত ইমনকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত তিনটার দিকে ইমনের মৃত্যু হয়।

এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় আব্দুল্লাহ খানসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন তার পরিবার।

পুলিশ সুপার নিত্যানন্দ দাশ জানান, হত্যাকান্ডের পরবর্তী সময়ে র‌্যাবের একটি গ্রেপ্তার অভিযানে নামেন। এক পর্যায়ে কক্সবাজারের টেকনাফ কচুবনিয়া এলাকা থেকে আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ডে তার জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে এবং পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সে এই হত্যাকান্ডটি সংঘটিত করে।

সে জানিয়েছে, কক্সবাজার শহরে ভিকটিম ইমন হাসান মাওলার পিতার একটি দোকান রয়েছে। গত কয়েক মাস আগে সেই দোকানে ইমনের পিতার সাথে আব্দুল্লাহ খান ও তার সহযোগীদের বাগবিতন্ডা হয়েছিল। এই বাগবিতন্ডার জের ধরে ভিকটিম ইমন ও তার সহযোগীদের সাথে আব্দুল্লাহ খান ও তার সহযোগীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এই মারামারির ঘটনার প্রেক্ষিতে আব্দুল্লাহ খানের পরিবার ইমন ও তার সহযোগীদের নামে মামলা করে।

উক্ত মারামারির ঘটনার প্রতিশোধ নিতে আব্দুল্লাহ খান সুযোগ খুঁজতে থাকে এবং পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২১ জুলাই রাতে সে উক্ত হত্যাকান্ড সংঘটিত করে।