ডলারের দাম আরও ২.৩৫ টাকা বাড়ল

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: ডলারের বিপরীতে টাকার রেকর্ড অবমূল্যায়ন হয়েছে। একদিনের ব্যবধানে অর্থাৎ বুধবারের তুলনায় বৃহস্পতিবার ডলারের দাম এক লাফে ১ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৩৫ পয়সা পর্যন্ত বেড়েছে।

আমদানির জন্য ডলার বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ৯১ টাকা ৫০ পয়সা দরে। গত বুধবার আমদানির জন্য প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছিল ৮৯ টাকা ১৫ পয়সা দরে। নগদ ডলার বিক্রি হচ্ছে ৯৪ থেকে ৯৭ টাকা দরে।

এক দিনের ব্যবধানে এটাই সবচেয়ে বেশি টাকার অবমূল্যায়ন। এর আগে গত রোববার ডলারের দাম সর্বোচ্চ ১ টাকা ১৫ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল। বাজারে ডলারের সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় দাম বাড়ছেই।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপে ডলারের একক দর নির্ধারণ করার চার দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে ওইদিন থেকেই ব্যাংকগুলো নিজেদের চাহিদা ও সরবরাহ অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করেছে। ফলে বাজারে ডলারের দাম বেড়ে যায়। এদিকে বৃহস্পতিবার আন্তঃব্যাংকে প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ৮৯ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ৯০ টাকা দরে। আগের দিন ছিল ৮৯ টাকা। একদিনে আন্তঃব্যাংকে ডলারের দাম বেড়েছে ৯০ পয়সা থেকে এক টাকা।

এদিকে মুদ্রার বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক তদারকি জোরদার করেছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোয় একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এতে প্রতিদিন বেলা ১১টার মধ্যে ব্যাংকগুলোকে বিনিময় হারের তিনটি তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আমদানির জন্য গ্রাহকের কাছে ডলার বিক্রির দর, প্রবাসীদের রেমিট্যান্স সংগ্রহ করার জন্য বিদেশে এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোকে দেওয়া দর এবং নেট ওপেন পজিশন লিমিট (এনওপি) বা প্রতিদিন লেনদেন শুরুর সময় ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ। এই তিনটি তথ্য দিয়েই বাজারের ওপর নজরদারি জোরদার করবে।

সরকারি ব্যাংকগুলো বৃহস্পতিবার আমদানির জন্য গ্রাহকদের কাছে ডলার বিক্রি করেছে ৯০ টাকা ৯০ পয়সা দরে। বেসরকারি ব্যাংকগুলো বিক্রি করেছে সর্বোচ্চ ৯১ টাকা ৫০ পয়সা দরে। বুধবার সব ব্যাংকই এ খাতে ৮৯ টাকা ১৫ দরে বিক্রি করেছে।

ফলে এক দিনের ব্যবধানে প্রতি ডলারের দাম ১ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৩৫ পয়সা পর্যন্ত বেড়েছে। রপ্তানি বিল সরকারি ব্যাংকগুলো কিনেছে গড়ে ৮৯ টাকা ৮০ পয়সা দরে এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলো কিনেছে ৯০ টাকা ২৫ পয়সা দরে। রেমিট্যান্সে সরকারি ব্যাংক কিনেছে ৮৯ টাকা ৬০ পয়সা দরে এবং বেসরকারি ব্যাংক কিনেছে ৮৯ টাকা ৮০ পয়সা দরে।

এর আগে ২৬ মে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে ডলারের একক দর নির্ধারণ করে আন্তঃব্যাংকে ৮৯ টাকা এবং আমদানির জন্য ৮৯ টাকা ১৫ পয়সা। এই দরে চার দিন ডলার বেচাকেনা হয়। এর মধ্যে রপ্তানিকারকরা রপ্তানি বিল নগদায়নে গড়িমসি শুরু করে। একই সঙ্গে এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো রেমিট্যান্সের ডলার ছাড় করতে দেরি করে। তারা বাড়তি দামের আশায় ডলার আটকে রাখছিল। এ তথ্য জানতে পেরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের দামের ক্ষেত্রে সীমা আরোপ থেকে সরে আসে।