টেকনাফ স্থল বন্দর দিয়ে একদিনে ৫৭০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি

CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

মিয়ানমার থেকে টেকনাফ স্থল দিয়ে একদিনে প্রায় ৫৭০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ এসেছে। তবে বন্দরে অবকাঠামোর অভাবে ট্রলার থেকে পেঁয়াজ খালাস হচ্ছে ধীরগতিতে। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। গত সেপ্টেম্বর মাসে থেকে ৩ হাজার ৫৭৩ দশমিক ১৪১ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করেছিল ব্যবসায়ীরা।

এদিকে, গত রবিবার পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে মূল্যবৃদ্ধির কারণে পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে বেশ কিছুদিন ধরেই সেদেশে পেঁয়াজের ঊর্ধ্বমুখী দাম নিয়ন্ত্রণে এই নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। সেদেশে নতুন নির্দেশিকা না আসা পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বজায় থাকবে বলে জানা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, মঙ্গবার (১ অক্টোবর) টেকনাফ স্থল বন্দরে একদিনে ৫৬৯ দশমিক ৭৩০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ টেকনাফ স্থল বন্দরে এসেছে। তবে বন্দরে শ্রমিকের অভাবে ট্রলার থেকে পেয়াজ খালাস হচ্ছে ধীরগতিতে। এতে পেঁয়াজ আমদানিকারকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে। কেননা দেশের চাহিদা মেটাতে মিয়ানমার থেকে পেয়াজ আমদানি বৃদ্ধি করলে কতৃপক্ষের সুযোগ-সুবিধা পচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেন।

অন্যদিকে মিয়ানমার থেকে দিনদিন প্রচুর পরিমান পেয়াজ আমদানি হলেও বাজারে দাম কমেনি।

মঙ্গলবার এম এ হাশেম, সাদ্দাম ,নাছির, শওকত, সাইফুদ্দিন, আয়াছ, বাহাদুর ব্যবসায়ী পেঁয়াজ আমদানি করে। পেঁয়াজ গুলো শ্রমিকেরা ট্রলার থেকে খালাস করে সরাসরি ট্রাক বোঝাই করেন। পরে স্থলবন্দর থেকে পেঁয়াজ ভর্তি ট্রাকগুলো ছাড়পত্র নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছেড়ে যায়। তবে মিয়ানমারের থেকে আমদানিকৃত প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম পড়ছে ৪৩ থেকে ৪৫ টাকা।

এছাড়া পরিবহন, শ্রমিকসহ আরো ৫ থেকে ৬ টাকার মতো খরচ হয়। এর মধ্যে যাতায়াতে কিছু পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে পড়ছে বলে আমদানিকারকরা জানিয়েছেন।

টেকনাফ শুল্ক স্টেশন সূত্রে জানা যায়, গত সেপ্টেম্বর মাসে ৩ হাজার ৫৭৩ দশমিক ১৪১ মেঃ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়ছিল। এসব পেঁয়াজের আমদানি মূল্য ১৫ কোটি ৫৫ লাখ ২৪ হাজার ৩৫৭ টাকা। এর আগে আগস্টে এসেছে ৮৪ মেট্রিক টন পেঁয়াজ।

গতমাসে টেকনাফ স্থল বন্দরের সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ আমদানিকারক এমএ হাশেম বলেন, দেশে পেঁয়াজের সংকট দূর করতে মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে। কয়েক হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ বোঝায় ট্রলার সাগর পথে রয়েছে। সেগুলো শীঘ্রই বন্দরে এসে পৌঁছাবে। তবে ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের খবর মিয়ানমারে পৌঁছুলে সেদেশের ব্যবসায়ীরাও পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

টেকনাফ স্থলবন্দরের শুল্ক কর্মকর্তা আবছার উদ্দিন বলেন, দেশের চাহিদা মেঠাতে মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি বেড়েছে।  এসব পেঁয়াজ দ্রুত খালাস করে ডেলিভারি করা হয়েছে। এছাড়া ৫টি পেঁয়াজ ভর্তি ট্রলার বোঝাই নিয়ে আসার পথে রয়েছে। তবে দেশের স্বার্থে মিয়ানমার থেকে পিয়াঁজ আমদানি অব্যাহত রাখতে ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।