টেকনাফে লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ

CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আশ্রিত এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযোগ এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন জড়িত রয়েছে।

ধর্ষণের শিকার কিশোরী টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-২২ এর বাসিন্দা।

মঙ্গলবার দুপুরে হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ধর্ষণের শিকার কিশোরীর বড় বোন আজিদা বলেন, রঙ্গিখালি এলাকার বাসিন্দার স্থানীয় শাহ জাহান নামে এক ব্যাক্তি ভিক্ষা দেওয়া নামে ঘরে ঢুকিয়ে মুখ চেপে ধরে, বোনকে ধর্ষণ করেছে। ওর বয়স দশ বছর। অভারে দায়ে বোন মাঝে মধ্যে ভিক্ষা চায়তে যায় স্থানীয়দের কাছে।’

আজিদা আরো বলেন, ঘটনার পর ভুক্তভোগী কিশোরীকে এনজিও’র লোকজন প্রথমে লেদা শরণার্থী শিবিরের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক সেখানে ধর্ষণ প্রমাণ পায়। কিন্তু বোন এখন নিজের বাড়িতে রয়েছেন, তবে তার আরো চিকিৎসার প্রয়োজন আছে বলে তিনি বলেন।’

এ প্রসঙ্গে টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-২২ এর মাঝি আজিম উল্লাহ বলেন, তার ক্যাম্পের এক কিশোরী ভিক্ষা চাইতে রঙ্গিখালি এলাকায় যায়। পরে সেখানকার বাসিন্দা এক যুবক রোহিঙ্গা কিশোরীকে চাল দেওয়ার নামে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে বলে ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছেন। এ ঘটনার সর্ম্পকে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেছি।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অপারেশন) রকিবুল ইসলাম খান বলেন, ‘রাহিঙ্গা কিশোরী ধর্ষণের খবর এই মাত্র শুনেছি। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

র‌্যাব-১৫ টেকনাফ ক্যাম্পের ইনচার্জ লে. মির্জা শাহেদ মাহাতাব(এক্স)বিএন বলেন, এক রোহিঙ্গা কিশোরী ধর্ষণের শিকার ঘটনাটি আমরা শুনেছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। এব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে যদি অভিযোগ পাওয়া যায় তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন।

শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের প্রতিনিধি লেদা ও আলীখালীর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সহকারি ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহা জাহান বলেন, ‘এক রোহিঙ্গা কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছেন। তারা স্থানীয় এক ব্যাক্তি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগও করেন। বিষয়টি কতৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এ ঘটনার তথ্য প্রমান সংগ্রহ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে নতুন-পুরোনো মিলিয়ে উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি শরণার্থী শিবিরে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। এর মধ্যে ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেদেশের সেনাবাহিনী ভয়াবহ অভিযান শুরু করলে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজার এলাকায় আশ্রয় করেছিল।