টিসিবির পণ্য আটকের পর বিক্রি ইউএনওর

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: কসবায় টিসিবির পণ্য সরিয়ে ফেলার সময় ইজিবাইকসহ আটক করেছেন ভুক্তভোগীরা। পরে এসব পণ্য স্থানীয়দের কাছে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করে দেন ইউএনও। তবে এ বিষয়ে ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। গত মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদ এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, মঙ্গলবার বিআরডিবি কার্যালয় থেকে টিসিবির ডিলার আবু কাওসারের ন্যায্যমূল্যের ৬৫৪ কার্ডধারীর মধ্যে তেল, চিনি ও ডাল দেওয়ার কথা। তবে বেশ কিছু মালপত্র না দিয়ে সরিয়ে ফেলে ডিলার ঘোষণা দেন, ‘পণ্য শেষ হয়ে গেছে।’ এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নারী-পুরুষ উপজেলা ফটকে অবস্থান নেন। এ সময় মালপত্রসহ মোহাম্মদ আলী নামের এক অটোচালককে আটক করেন তাঁরা। পরে সাংবাদিকদের সহায়তায় পুলিশে খবর দিলে থানার ওসি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ঘটনাস্থলে যান। সেখানে ৩৮ কেজি সয়াবিন তেল, ৩৮ কেজি মসুর ডাল, ২১ কেজি চিনি আটকের বিষয়ে ইউএনওকে জানান ওসি।

সন্ধ্যার পর ইউএনও মাসুদ উল আলম কয়েকজন ডিলারের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে বসে ‘গোপন’ বৈঠক করছিলেন বলে জানতে পারেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। এ সময় কয়েকজন সাংবাদিক ইউএনওর কার্যালয়ে যান। এ সময় ইউএনও দাবি করেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন তিনি। তবে আটক পণ্য রাতে ভুক্তভোগীদের কাছে বিক্রি না করে স্থানীয়দের মধ্যে বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ ওঠে।

উপজেলার তারাপুর গ্রামের কার্ডধারী আনোয়ার হোসেন, গুরুহিত গ্রামের জিহাদ, নূপুর বেগম, কসবার রেহেনা বেগম, সুমাইয়া আক্তার জানান, দুপুর ১টায় অফিসে গেলে ডিলার তাদের বলেন, ‘মাল নাই।’ কিন্তু অটো দিয়ে মাল নিয়ে যায় বাইরে। তাই অটোটি আটক করেন তাঁরা।
আকবপুর গ্রামের হেনা বেগমের দাবি, কার্ড পেয়ে তিন কিস্তিতে এসে কোনোবারই পণ্য নিতে পারেননি।
টিসিবি ডিলার আবু কাউসার দাবি করেন, তিনি বিআরডিবি অফিস থেকে ৬৫৪ জনকে পণ্য দেন। কিন্তু তাঁর রেজিস্টারে দেখা যায়, ৫৯০ জন পণ্যগ্রহীতার টিপসই রয়েছে।
অটোচালক মোহাম্মদ আলীর দাবি, ডিলার কাউসার অটো দিয়ে এসব মালামাল তাঁর (ডিলারের) দোকান কুটি বাজারে নিয়ে যেতে বলেন।

ট্যাগ কর্মকর্তা সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেল জানান, কখন মালামাল চুরি করে সরিয়ে ফেলেছে, তা তিনি টের পাননি।

পৌর কাউন্সিলর ফোরকান আহাম্মদ ও রিনা আক্তার সাংবাদিকদের জানান, লেবারদের জন্য চারটি প্যাকেট দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাকি প্যাকেটগুলো কখন সরিয়েছে, তাঁরা টের পাননি।

কসবা থানার ওসি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এখতিয়ার। তবে পরিষদের ভেতরে না হলে এসব মালপত্র, অটোচালক ও ডিলারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসতাম।’
উপজেলা চেয়ারম্যান মো. রাশেদুল কাওসার জীবন বলেন, বিষয়টি শুনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইউএনওকে বলেছেন তিনি।