টবগী-১ কূপে ৩০ বছরে মিলবে ৮০৫৯ কোটি টাকার গ্যাস

শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রের টবগী-১ কূপের খননকাজ শুরু হয় গত ১৯ আগস্ট। ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: ভোলা জেলার শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রের টবগী-১ কূপের খননকাজ সম্পন্ন হয়েছে। কূপে মজুদ আছে প্রায় ২৩৯ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস (বিসিএফ)। যার আনুমানিক মূল্য ৮ হাজার ৫৯ কোটি টাকার বেশি। আর এলএনজি আমদানি মূল্য বিবেচনায় তা আরও বহুগুণ।

এই কূপ থেকে ৩২/৬৪ ইঞ্চি সাইজের চোক ব্যবহার করে দৈনিক গড়ে ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে। সে হিসেবে ৩০-৩১ বছর গ্যাস উৎপাদন সম্ভব হবে।

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) এক বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এতে বলা হয়েছে, শাহবাজপুর গ্যাস ফিল্ড থেকে টবগী-১ কূপ এলাকা আনুমানিক ৩.১৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। গত ১৯ আগস্ট এই কূপের খননকাজ শুরু হয়। ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কূপের ৩ হাজার ৫২৪ মিটার গভীর পর্যন্ত সফলভাবে খনন কাজ শেষ হয়। মঙ্গলবার কূপে সম্ভাব্য গ্যাস মজুদ ও উৎপাদন হার নিরূপণে কারিগরি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ৭ নভেম্বর নাগাদ কূপটি দ্রুত উৎপাদনক্ষম করার লক্ষ্যে কূপের কমপ্লিশন ও ক্রিসমাস ট্রি স্থাপন সম্পন্ন হবে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান বলেন, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। টবগী-১ কূপ গ্যাস সংকট নিরসনে সহায়তা করবে।

বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এ কূপ খনন তার মধ্যে অন্যতম। সফলভাবে খনন কাজের মধ্য দিয়ে গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর প্রক্রিয়া আরও একধাপ এগিয়ে গেল।

উল্লেখ্য, দেশীয় জ্বালানির উৎস অনুসন্ধানে কাজ করছে সরকার তথা পেট্রোবাংলা। এ লক্ষ্যে ২০২২-২৫ সময়কালের মধ্যে সংস্থাটি মোট ৪৬টি অনুসন্ধান, উন্নয়ন ও ওয়ার্কওভার কূপ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে বাপেক্স রাশিয়ান প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রমের মাধ্যমে ভোলায় টবগী-১ নামক অনুসন্ধান কূপ খননের কাজ করেছে।

এ প্রকল্পের আওতায় ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ইলিশা-১ ও ভোলা নর্থ-২ নামের আরও দুটি কূপ খনন করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে তিনটি কূপ হতে সর্বমোট দৈনিক ৪৬ থেকে ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হতে পারে।