জেলা পরিষদ নির্বাচন: ৬৮ শতাংশের পেশা ব্যবসা

জেলা পরিষদ নির্বাচনে ৬৮ শতাংশের পেশা ব্যবসা।
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: জেলা পরিষদ নির্বাচনে সাধারণ ওয়ার্ডে প্রার্থীদের মধ্যে ৬৮ শতাংশের পেশা ব্যবসা। কৃষিজীবী আছেন ২০ শতাংশ। আর অন্যান্য পেশার প্রার্থী রয়েছেন ২০ শতাংশ। আর শিক্ষাগত যোগ্যতায় ৫৯ শতাংশ প্রার্থীই উচ্চশিক্ষিত। স্বাক্ষরজ্ঞান বা স্বশিক্ষিত প্রার্থী আছেন ২২ শতাংশ। সাধারণ ওয়ার্ডের ৪৪ জন প্রার্থীর হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

আগামী সোমবার জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দুইজন, সাধারণ ওয়ার্ডে ৪৪ জন ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ২২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা মনোনয়নপত্রে প্রার্থীদের আয়-ব্যয় ও সম্পদের হিসাব সংক্রান্ত হলফনামা জমা দিয়েছেন। সাধারণ ওয়ার্ডে ৪৪ জন প্রার্থীর হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, স্নানকোত্তর পাস করা প্রার্থী আছেন সাতজন, স্নাতক ডিগ্রিধারী আছেন ১১ জন, আটজন এইচএসসি ও চারজন এসএসসি পাস। অক্ষরজ্ঞান বা স্বশিক্ষিত প্রার্থী রয়েছেন ১০ জন। নবম ও অষ্টম শ্রেণি পাস প্রার্থী আছেন দুই। দুই প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা পাওয়া যায়নি।

৪৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ব্যবসায়ী প্রার্থী আছেন ৩০ জন। কৃষি ও গৃহস্থি পেশায় আছেন পাঁচজন। চাকরি থেকে অবসর, চাকরিজীবী, সাংবাদিকতা ও অন্যান্য পেশায় আছেন নয়জন।

৪৪ প্রার্থীর মধ্যে তিন-চার জন আয় উল্লেখ করেননি। ব্যবসায়ী ও কৃষিজীবী প্রার্থীদের মধ্যে কয়েকজন ধনাঢ্য প্রার্থী রয়েছেন। বেশির ভাগ প্রার্থীই নিজের আয়ের টাকা দিয়ে নির্বাচনী খরচ মেটাবেন। আর কয়েকজন প্রার্থী ধার-দেনা বা উপহারের টাকায় নির্বাচনী খরচ সামলাবেন।

১৪ নং ওয়ার্ডের প্রার্থী গোলাম ফেরদৌস কৃষিখাত থেকে বছরে আয় দেখিয়েছেন তিন লাখ ৩০ হাজার টাকা। তার নামে ৫০ শতক কৃষি জমি রয়েছে।

১১ নং ওয়ার্ডের মো. শেখ টিপু চৌধুরী পেশায় কৃষি ও মৎস্যখামার দেখিয়েছেন। কৃষি খাতে তার বছরে আয় এক লাখ ২৫ হাজার টাকা। আর মৎস্য খাতে আয় করেন চার লাখ ২৫ হাজার টাকা। তার নগদ টাকার পরিমাণ এক লাখ ২৫ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আছে এক লাখ ১০ হাজার টাকা। বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জ তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানে আছে ১০ লাখ টাকা।

১ নং ওয়ার্ডের প্রার্থী প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী বেসরকারি চাকরিজীবী উল্লেখ করেছেন। কৃষি খাত থেকে তার বছরে আয় ৩৬ হাজার টাকা। চাকরি থেকে আয় ৫ লাখ ১৫ হাজার ৬৮৪ টাকা। ব্যাংক সুদ পান ৬ হাজার ২৩২ টাকা ও কার ভাড়া থেকে পান ৯৮ হাজার ৩শ টাকা। নগদ টাকার পরিমাণ ৩৪ লাখ ৮৪ হাজার ৬৯২ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ৯২ হাজার ৪১৯ টাকা। স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ আছে দুই লাখ টাকা। মোটরগাড়িতে আছে ২১ লাখ ১০ হাজার টাকা। অন্যান্য মূলধন আছে নয় লাখ ৪৪ হাজার ৬৫০ টাকা। তার স্ত্রীর নামেও বিপুল সম্পদ রয়েছে। নিজের ও স্ত্রীর নামে কৃষি-অকৃষি ও বাড়ি/এপার্টমেন্ট রয়েছে।

১৩ নং ওয়ার্ডের প্রার্থী এম জিল্লুর করিম শরীফি পেশায় ঠিকাদারি ব্যবসায়ী। কৃষি খাত থেকে বছরে ২০ হাজার ৫শ ও ব্যবসায় থেকে তিন লাখ ৩৯ হাজার ৫শ টাকা আয় দেখিয়েছেন। তার নগদ টাকার পরিমাণ দুই লাখ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আছে এক লাখ ৮০ হাজার ৫শ টাকা। তার নামে ১০ গণ্ডা কৃষি জমি রয়েছে।

৮ নং ওয়ার্ডের প্রার্থী বোরহান উদ্দিন মো. এমরান বেসরকারি (অব.) চাকরিজীবী উল্লেখ করেছেন। আয় দেখিয়েছেন কৃষি খাত থেকে আট হাজার ৪০৩ টাকা। দোকান ভাড়া ও মৎস্য খাত থেকে আয় বছরে তিন লাখ ৪৩ হাজার ১৯৭ টাকা। নগদ টাকার পরিমাণ ৫ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭৫ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আছে ১১ হাজার ১৭২ টাকা।