জিম এর ব্যবসার নামে সাধারণ মানুষকে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি

অপহরণকারী চক্রের ৫ সদস্য আটক, মোটরসাইকেল জব্দ

পাওয়ার জিম" নামে জিমনেসিয়াম ব্যবসার আড়ালে সাধারণ মানুষদের আটক রেখে মুক্তিপণ দাবি
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

ফেনী প্রতিনিধি: ফেনীতে বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় মেস ফ্যাক্টরির পাশে “পাওয়ার জিম” নামে জিমনেসিয়াম ব্যবসার আড়ালে সাধারণ মানুষদের আটক রেখে মুক্তিপন আদায়কারী চক্রের মূলহোতাসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৭ । গ্রেপ্তারের পর ভয়ঙ্কর লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দিলেন তারা। জিম ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন তারা এসব করতো বলে জানান।

গ্রেপ্তারকৃত মোঃ ইমতিয়াজ উদ্দিন তোফায়েল (৩৪),ফেনী সদর উপজেলার দেবীপুর গ্রামের মৃত শাহাবুদ্দিনের ছেলে,  আনোয়ার হোসেন (২৫) শর্শদী গ্রামের আবুল হোসেন ছেলে,  আব্দুল্লাহ আল মামুন (২৬)দেবীপুর গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে, জাহিদ হোসেন (১৫) একই গ্রামের মৃত হারুন বাবুচির ছেলে  ও  রফিকুল ইসলাম আরিফ দাগনভূঞা উপজেলার সিলোনিয়া গ্রামের মোহাম্মদ কবিরের ছেলে।

র‍্যাব ৭ সিনিয়র সহকারী পরিচালক কমান্ডার মোঃ নুরুল আফছার ভুক্তভোগির উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী বর্তমানে একটি বেসরকারী কোম্পানীতে সাধারণ পদে কুমিল্লা শাখায় কর্মরত।  গত ২৪ আগস্ট  দুপুরে ফেনীর ট্রাংক রোডে অফিসের কাজ শেষে মদিনা বাস স্ট্যান্ড থেকে চৌদ্দগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন।

বাস ছাড়ার আনুমানিক ১০-১৫ মিনিট পর বিসিক রাস্তার মোড়ে দুই জন স্টুডেন্টসহ তিনজন ব্যক্তি উক্ত বাসকে সিগন্যাল দিয়ে থামিয়ে ভিকটিমকে গাড়ী থেকে নামতে বলেন। ভিকটিম গাড়ী থেকে নামার পর তারা তাকে একটি চায়ের দোকানের ভিতরে নিয়ে যায় এবং তার সাথে থাকা ২ হাজার দুশত টাকা এবং মোবাইল ফোন জোরপূর্বক কেড়ে নেয়। পরে অপহরণকারীরা ভিকটিমকে সিএনজির মাধ্যমে ফেনী বিসিক শিল্পনগরীর “পাওয়ার জিম” সেন্টারের নিচ তলার রুমে নিয়ে আটকে তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও চর-থাপ্পর দিয়ে তার কাছে ১ লাখ টাকা দাবী করে এবং  টাকা না দিলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরে ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল হতে অপহরণকারীরা তার স্ত্রীর কাছে ফোন করে ১ লাখ টাকা দাবী করে এবং টাকা না দিলে তার স্বামীকে মেরে ফেলা হবে বলে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে।

তখন ভিকটিমের স্ত্রী কোন উপায় না পেয়ে ভয়ে তাৎক্ষনিভাবে বিকাশের মাধ্যমে ৩ হাজার টাকা প্রেরণ করে। মাত্র ৩ হাজার টাকা পেয়ে অপহরণকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ভিকটিমের সাথে একটি মেয়ের আপত্তিকর ভিডিওচিত্র মোবাইলে ফোনের মাধ্যমে ধারণ করে এবং ভিকটিমকে এসএস পাইপ দিয়ে পিটিয়ে আঘাত করে এবং তার স্ত্রীকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বলে ‘‘যেখান থেকে পারেন টাকা এনে দেন, টাকা দিলে আপনার স্বামীকে ফেরত পাবেন’ এবং টাকার সাথে আপনার স্বামীর এনআইডি কার্ড এবং ডিবিবিএল এটিএম কার্ড সাথে নিয়ে আসবেন।

এই কথা শুনে ভিকটিমের স্ত্রী কোন উপায় না পেয়ে গত ২৫ আগস্ট  রাত একটার সময়  নগদ ২৫ হাজার টাকা এবং এনআইডি কার্ড, এটিএম কার্ড নিয়ে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসে। তখন অপহরণকারীর মোঃ ইমতিয়াজ উদ্দিন তোফায়েল উক্ত টাকা এবং এনআইডি কার্ড, এটিএম কার্ড বুঝে নিয়ে পরে আরো ৫০ হাজার টাকা দাবী করে সাদা কাগজে ভিকটিমের স্বাক্ষর নেয় এবং ৫০ হাজার  টাকা না দিলে এবং কোন প্রকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানালে ধারনকৃত সাজানো ভিডিও চিত্রগুলো সোস্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দিবে বলে হুমকী প্রদান করে ভিকটিমকে ছেড়ে দেয়।

ভিকটিম অপহরণকারীদের কাছ থেকে মুক্তি পেয়ে গত ২৫ আগস্ট বিকালে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রামকে অবহিত করে। র‌্যাব-৭ চট্টগ্রাম বিষয়টি গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করে উক্ত অপহরণের সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে ব্যাপক গোয়েন্দা নজরদারী অব্যাহত রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম এর একটি আভিযানিক গতকাল ২৬ আগস্ট রাতে মহিপাল এলাকা হতে অপহরণের সাথে জড়িত অন্যান্য অপহরণকারী সদস্যদের গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন যাবৎ মুক্তিপনের জন্য মানুষকে অপহরণ করে পরবর্তীতে তাদের জিম্মি করে পরিবার পরিজনের নিকট হতে মুক্তিপন আদায় করে আসছে।