জনবিক্ষোভ থামাতে জরুরি অবস্থা জারি শ্রীলঙ্কায়

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কায় জনবিক্ষোভ থামাতে অবশেষে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। শুক্রবার শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে জারি করা এক নোটিসে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নোটিসে বলা হয়েছে, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার থেকে এটি কার্যকর হবে।শ্রীলঙ্কার আইন অনুযায়ী, জরুরি অবস্থা চলাকালে দেশের সেনাবাহিনী মোতায়েনসহ নির্বিচারে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা রাখেন প্রেসিডেন্ট।

মহামারি ও সরকারের ত্রুটিপূর্ণ করনীতির কারণে ডলারের রিজার্ভ ব্যাপকভাবে কমেছে শ্রীলঙ্কার। চলতি সপ্তাহে দেশটির অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে মাত্র ৫ কোটি বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে।বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়ায় জ্বালানি তেল, খাদ্য, ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য আমদানি করতে পারছে না দেশটি; মুদ্রাস্ফীতি দিন দিন বাড়ছে এবং দেশটিতে শুরু হয়েছে ভয়াবহ আর্থিক ও মানবিক সংকট।

এই পরিস্থিতির জেরে গত প্রায় দু’মাস ধরে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ চলছে শ্রীলঙ্কায়। শুরুর দিকে জনগণের দাবি ছিল— শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সব সদস্যকে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হবে।জনগণের এই দাবি আংশিকভাবে মেনে নিয়ে গত মাসের প্রথম সপ্তাহে একসঙ্গে পদত্যাগ করেন মন্ত্রীপরিষদের সব সদস্য। এপ্রিলের শেষ দিকে পদত্যাগ করেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসেও।

কিন্তু তাতে বিক্ষোভ পরিস্থিতি প্রশমিত হয়নি; বরং ক্ষমতায় আসীন থাকা প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চলতেই থাকে। গত সপ্তাহে শ্রীলঙ্কার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি বিভিন্ন পরিষেবা সংস্থা, হাসপাতাল ও সাধারণ দোকানপাটের কর্মীরাও বিক্ষোভে যোগ দেন।

শুক্রবার শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন একদল আন্দোলনকারী। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয় তাদের।সেই দিন সন্ধ্যায়ই জরুরি অবস্থা জারির নির্দেশ আসে প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে।শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের এই আদেশের সমালোচনা করেছেন দেশটির অন্যতম বিরোধী দলীয় নেতা সাজিথ প্রেমাদাসা। বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘গোতাবায়া রাজাপাকসে নিজের গদি বাঁচাতে এ আদেশ দিয়েছেন। তবে এতে তার শেষ রক্ষা হবে না।’

এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কায় নিয়োজিত কানাডীয় রাষ্ট্রদূত ডেভিড ম্যাককিননও। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনগণের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ স্বীকৃত। যে পদক্ষেপ জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে, কানাডা সবসময়েই তার বিরুদ্ধে।’