চেতনা নাশক ওষুধ মেশানো ডাবের পানি খাইয়ে সর্বস্ব লুট করতো তারা (ভিডিওসহ)

গ্রেফতারকৃত চার প্রতারক
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

চাচা একটা ডাব নাও। না, চাচা আমি নাস্তা করেছি । বাবা আমি নামাজে যাব ডাবটি নাও। বয়স্ক লোকটি নামাজ পড়ার কথা বলায় আমি বিশ্বাস করে একটা ডাব কিনে পান করলাম। কয়েক মুহুর্তে আমার খারাপ লাগা শুরু হলো। পাশের জনকে বললাম আমাকে ১ নং রোডে নামিয়ে দিবেন। তার সম্মতি পাওয়ার আগে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি। আর কিছুই জানিনা।

এভাবে কথা গুলো সিপ্লাসকে বললেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আধুনিক ভাষা বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান রকি ।

২৪ আগস্ট শনিবার রাতে নিউমার্কেট মোড় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় যাওয়ার জন্য গাড়িতে উঠার পর এঘটনা ঘটে।

সে সেময় আমার পকেটে থাকা মোবাইল সেট, মানিব্যাগ ও  নতুন কেনা প্যান্ট-শার্টের প্যাকেটগুলো খোয়া যায়।

সেইদিন বিশ্ববিদ্যালয় এক নম্বর গেইটে যাওয়ার পরও আমার  জ্ঞান ফিরে না আসায় সামনের সিটের দুই ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার হলে নিয়ে যায়। সেখান থেকে আমার বন্ধুরা হাসপাতালে নিয়ে যায়।

পরে সুস্থ্য হয়ে বুঝতে পারি আমায় ডাব খাইয়ে অজ্ঞান করে ফেলেছিল অজ্ঞান পার্টির লোকজন। লুটে নিয়েছিল আমার কাছে থাকা সবকিছু ।

কোতোয়ালী ও বাকলিয়া থানার দুইটি মামলায় এই চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করে, কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের থেকে নগদ দুই হাজার ২২৫০ টাকা, মেহেদীর কাছ থেকে নেওয়া মোবাইল ফোন, মানি ব্যাগ ও শার্ট-প্যান্টের প্যাকেটগুলোও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

চক্রের গ্রেফতার চার সদস্যরা হলো- খুলনা জেলার রুপসা থানার বাগমারা এলাকার আবদুল ছমেদ হাওলাদারের ছেলে মো. শহিদুল ইসলাম (৩০), একই এলাকার জয়নাল সর্দারের ছেলে মো. বাবুল (৩৬), ফিরোজপুর জেলার মঠবাড়ি থানার হাসান আলীর ছেলে রতন মিয়া (৮৫) ও বরগুনা জেলার বামনা থানার মধ্য আমতলী এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে মো. হারুন (৩১)।

আদালতে নেওয়ার আগে অজ্ঞান চক্রের সদস্যরা সিপ্লাসকে বলেন,  তিনমাস থেকে তারা এ কাজ  শুরু করে। মাসখানেক আগেও ঢাকার যাত্রাবাড়ি ও শনির আখড়ায় এই ধরনের দুইটি ঘটনা ঘটিয়েছেন তারা। এরপর ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে আর কাজ না করে গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে চলে আসেন এবং লালদিঘীর পাড়ে একটি বোর্ডিংয়ে রুম ভাড়া নেন। শনিবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রের কাছ থেকে টাকা ও মালামাল হাতিয়ে নেওয়ার পর রোববারও তারা একই ধরনের একটি কাজ করেন চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী লোকাল বাসে।

বিভিন্নজনের কাছ থেকে ছিনতাই করতে তারা ডাবের সাথে অজ্ঞান করার ওষুধ  মিশিয়ে টাকা-পয়সা লুটে নেওয়ার কাজ শুরু করে। বিভিন্ন ওষুধের দোকান থেকে নেশাজাতীয় ওষুধ ও ইনজেকশনের সিরিঞ্জ সংগ্রহ করে এই চক্র। তারপর পানির সাথে ২০টি ওষুধ মিশিয়ে সিরিঞ্জের মাধ্যমে ডাবে ঢোকানো হয় বলে জানায় তারা।

চক্রের সদস্য হারুণ ও শহিদুল জানায়, ওষুধ ঢোকানো ডাবগুলো চিহ্নিত করে রাখা হয় এবং টার্গেট করা ব্যক্তিদের কাছে বিক্রি করা হত।

হারুণ বলে, রতন মিয়া ডাব বিক্রেতার বেশে থাকে আর বাবুল সাজে ক্রেতা। তারা দুইজন ডাব ক্রেতাকে অনুসরণ করে থাকে। পরে  টার্গেটকৃতকে লুটে নেওয়ার মিশন শেষ করে।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এসএম মেহেদী হাসান সিপ্লাসকে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, অজ্ঞান পার্টির চার সদস্যকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে । তাদের কাছ থেকে মানু্ষের ছিনিয়ে নেওয়া টাকা, ১০০টি ক্লোনোজেপাম ইপিট্রা ২ ট্যাবলেট, ৩২০টি ক্লোনোজেপাম লোনাজেপ ২ ট্যাবলেট ও ১৫টি সিরিঞ্জ উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি জানান, এ চক্রে বৃদ্ধ সদস্য ডাব বিক্রেতা হিসেবে কাজ করেন। একই জায়গায় আরেকজন ডাব ক্রেতা হিসেবে অবস্থান করেন। টার্গেট নির্দিষ্ট করার পর বৃদ্ধ ডাব বিক্রেতা ওই লোককে অনুরোধ করে তার কাছ থেকে একটি ডাব কেনার জন্য। বিশ্বাস জমানোর জন্য এ চক্রের অপর সদস্য একটি ডাব কিনেন বৃদ্ধের কাছ থেকে। সবার সামনে সেটি পান করে ফেলেন। টার্গেট হওয়া ব্যক্তি ফাঁদে পড়ে ডাব কেনার আগ্রহ প্রকাশ করলে তাকে অজ্ঞান হওয়ার ওষুধ মেশানো  চিহ্নিত ডাবটি দেওয়া হয়।

ডাব খাওয়ার পর ওই লোক হাঁটা শুরু করলে তার পেছনে এই চক্রের দুই সদস্য হাঁটেন। যদি ওই ব্যক্তি গাড়িতে উঠেন তাহলে তারা দুইজনও গাড়িতে উঠে। টার্গেট হওয়া ব্যক্তি যদি অজ্ঞান হয়ে যায় তাহলে এ চক্রের সদস্যরা তাকে তাদের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে সবার সামনে থেকে তুলে নিয়ে চলে যায়। পরে সুবিধামত জায়গায়  নিয়ে গিয়ে সব ছিনিয়ে নিয়ে তাকে ফেলে দেয় বলেন পুলিশের এই  কর্মকর্তা।