চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য: রপ্তানি আয় ছাড়াল ১ বিলিয়ন ডলার

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: প্রথমবারের মতো দেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি আয় এক বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) এ খাতে রপ্তানি হয়েছে ১১১ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরে চামড়া খাত থেকে এতটা রপ্তানি আয় হবে সেটা অবশ্য বছরের শুরুতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও আশা করেনি। কারণ পুরো অর্থবছরে এ খাত থেকে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১০৩ কোটি ডলার। ১১ মাসেই এ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সাড়ে আট কোটি ডলার বেশি রপ্তানি আয় এসেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুসারে, গত ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য থেকে ৮৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার রপ্তানি হয়। সেই হিসাবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর চামড়া খাতে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩১ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

সংশ্নিষ্টরা জানিয়েছেন, ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে করোনার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে নানা ধরনের প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওইসব দেশে চামড়াজাত পণ্যের বিক্রি ভালো। এ ছাড়া পর্যটন স্পটগুলো খুলে দেওয়ার পর থেকে ভ্রমণের প্রয়োজনে নতুন করে চাহিদা বেড়েছে জুতা, ব্যাগ ইত্যাদির। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে দেশে দেশে মূল্যস্ম্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় আগামীতে এ ধরনের পণ্যের চাহিদা কমার আশঙ্কা রয়েছে।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে মে পর্যন্ত সময়ে এ খাতে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি আয় এসেছে ফুটওয়্যার বা পাদুকা থেকে। মোট ৬৭ কোটি ৩০ লাখ ডলারের রপ্তানি আয় এসেছে। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩১ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেশি।

এরপরই রয়েছে চামড়াজাত অন্যান্য পণ্য। বাংলাদেশ থেকে চামড়ার তৈরি বেল্ট, মানিব্যাগ, নানা ধরনের লেডিস ব্যাগ, বিভিন্ন ধরনের বাক্স, জ্যাকেট, হ্যান্ডগ্লাভস, গাড়িতে ব্যবহূত জিনিসপত্র অনেক দেশে রপ্তানি হয়ে থাকে। পাদুকা ছাড়া অন্যান্য চামড়াপণ্য থেকে চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে ৩০ কোটি ২৭ লাখ ডলার রপ্তানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া এ সময়ে চামড়া রপ্তানি থেকে ১৪ কোটি ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ, যা আগের বছরের তুলনায় ২৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি।

ঢাকা মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, চামড়াজাত শিল্পে বাংলাদেশের ব্যাপক সম্ভাবনা আছে। তবে দেশে কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা এখনও শতভাগ পরিবেশসম্মত নয়। সাভারের চামড়া শিল্পনগরীকে পরিবেশসম্মত হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। পুরো প্রক্রিয়াজাত কার্যক্রম পরিবেশসম্মত হতে হবে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে তার স্বীকৃতি পেতে হবে। তাহলে এ খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাবে। এ জন্য চামড়া খাতের শীর্ষস্থানীয় এই উদ্যোক্তা সব রপ্তানি খাতে সমান নীতি সুবিধা ও রপ্তানি বহুমুখীকরণে বিশেষ সহায়তা দেওয়ার সুপারিশ করেন। তিনি মনে করেন, প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা ও চামড়ার পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়াজাতকরণ নিশ্চিত করা গেলে ২০২৪ সাল নাগাদ এ খাতের রপ্তানি ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে।