চাপ কমাতে জিসিবির এলসিএল পণ্য বন্দরের বাইরে খালাসের উদ্যোগ

চাপ কমাতে জিসিবির এলসিএল পণ্য বন্দরের বাইরে খালাসের উদ্যোগ।
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম বন্দরের উপর চাপ কমাতে বন্দরের জেনারেল কার্গো বার্থের (জিসিবি) কিছু শেডের এলসিএল কনটেইনার বন্দরের বাইরে বন্দর স্টেডিয়াম সংলগ্ন এক্স-ওয়াই শেডে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

এ নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জিসিবি এলাকায় সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত বার্থ অপারেটর ও ওই শেডগুলোতে কর্মরত শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। তাদের অভিযোগ, জিসিবি’র কাজ ভাগ করে বে গ্রুপ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে বন্দর কর্তৃপক্ষ চুক্তিভিত্তিতে পরিচালনার জন্য হস্তান্তর করছে। এতে নিয়োগকৃত বার্থ অপারেটরগণের কাজ হাতছাড়া হবে। বেকার হয়ে পড়বে তাদের অধীনে কর্মরত শ্রমিকেরা। এতে অসন্তোষ দেখা দেয়ার আশঙ্কা করছেন নিয়োগপ্রাপ্ত বার্থ অপারেটরগণ।

বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তরে প্রতিদিন অসংখ্য এলসিএল (লেস দেন কনটেইনার লোড) কনটেইনার জেটি সংলগ্ন সেডগুলোতে নিয়ে আনস্টাফিং করে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানে লোড করে বন্দর থেকে ডেলিভারি দেওয়া হয়। সেই পণ্য ডেলিভারি নিতে গিয়ে অসংখ্য ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানকে বন্দরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে হয়। যা অধিকাংশ সময়ে বন্দরের ভেতর জ্যামের সৃষ্টি করে এবং বন্দরের মূল অপারেশনাল কাজে ব্যঘাত ঘটায়।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, জিসিবিতে কাজ করার জন্য যে ছয়টি বার্থ অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তাদেরকেই কাজটি দেওয়া হোক। এর বাইরে অন্য কাউকে কাজটি দেয়া হলে নিয়োগকৃত অপারেটররা কাজ হারাবে একইসঙ্গে তাদের অধীনে কর্মরত শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়বে। আশঙ্কা রয়েছে শ্রমিক অসন্তোষের।

এ প্রসঙ্গে বন্দর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর গণমাধ্যমকে বলেন, বন্দরের ওইসব শেডে প্রতিদিন অন্তত সাড়ে ৪শ থেকে ৫শ শ্রমিক কাজ করেন। এখন সেই কাজ যদি ভাগ করে বন্দরের বাইরে তৃতীয় পক্ষকে দিয়ে করা হয় তাহলে আমাদের শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়বে। এতে শ্রমিকদের মনে ক্ষোভ সৃষ্টি হবে। তাই বন্দরের উচিত হবে যদি বাইরে এলসিএল কার্গো আনস্টাফিং ও ডেলিভারির কাজ করতেই হয় তাহলে বিদ্যমান শ্রমিকদের সেখানে কাজের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে।

এদিকে তৃতীয় পক্ষকে চুক্তি ভিত্তিতে কাজ দেওয়া প্রসঙ্গে বার্থ অপারেটরর্স, শিপহ্যান্ডলিং অপারেটর্স এন্ড টার্মিনাল অপাটেরর্স ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে ইকরাম চৌধুরী পূর্বকোণকে বলেন, কয়েক মাস আগে চট্টগ্রাম বন্দরের জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) এলাকার ৬টি কনটেইনার বার্থে পাঁচ বছরের জন্য উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে অপারেটর নিয়োগ করা হয়। ওই জেটিগুলোতে কনটেইনার পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে রেসপনসিভ দরতাদাতের মধ্যে থেকে ৬টি বার্থ অপারেটরের সাথে গত সেপ্টেম্বরে ২৫ তারিখ পাঁচ বছরের জন্য চুক্তি করে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

সেই চুক্তি অনুযায়ী জিসিবি’র সেড থেকে বন্দরের নিজস্ব অন্য আরেকটি সেড (এক্স-ওয়াই) এলসিএল পণ্যবাহী কনটেইনার আনস্টাফিং ও ডেলিভারি কার্যক্রম হস্তান্তর করা হলে অবশ্যই তা জিসিবিতে কর্মরত বিদ্যমান অপারেটর দিয়েই করতে হবে। অন্যথায় পিপিআর-২০০৮ এর বিধি-৩৮ এ ‘চুক্তি পরিচালনা ও ব্যবস্থাপন’ এর ধারা ১ ও ৯ এর ব্যত্যয় ঘটবে।

এছাড়া চুক্তিবদ্ধ অপারেটরের বাইরে তৃতীয় কোন প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে কাজটি করানো হলে জিসিবির বর্তমান অপারেটরদের কাজ ভাগ হয়ে যাবে। এতে বর্তমান অপারেটরদের কাজ কমে গিয়ে শ্রমিকরা কাজ হারাবে। তাই আমাদের সাথে কাজের চুক্তি করে আবার আমাদের কাজ ভাগ করে তৃতীয় পক্ষকে দেওয়াটা বন্দর কর্তৃপক্ষের আমাদের প্রতি অবিচার করা হবে।
তাই অনুরোধ রইলো জিসিবি’র শেডের এলসিএল পণ্যবাহী কনটেইনার হ্যান্ডলিং, আনস্টাফিং ও ডেলিভারি কার্যক্রম যদি এক্স-ওয়াই শেডে হস্তান্তর করা হলে অবশ্যই তা জিসিবেতে নিয়োগকৃত অপারেটরদের দিয়েই সেটি পরিচালনা করা হোক।

এ প্রসঙ্গে বন্দরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, পৃথিবীর কোন বন্দরেই বন্দরের অভ্যন্তর থেকে এলসিএল পণ্য ডেলিভারি হয় না। এটি শুধু চট্টগ্রাম বন্দরেই চলমান আছে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি পণ্য বেড়ে গেছে। ফলে এখানে এলসিএল পণ্য আনস্টাফিং করে ডেলিভারি দেওয়াটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওইসব পণ্য ডেলিভারি নিতে প্রচুর ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান বন্দরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। ফলে জ্যাম বাধে এবং বন্দরের মূল অপারেশনাল কাজে ব্যঘাত করে।

এছাড়া আন্তর্জাতিক আইএসপিএস কোড নেমে চলতে গেলে বন্দরকে এই ধরনের পণ্য ডেলিভারির কাজ বাইরে নিয়ে আসতেই হবে। আধুনিক বন্দর করতে গেলে এর বিকল্প নেই। তবে এখন সেটি প্রাথমিক পর্যায়ে শুরু হচ্ছে। সেটি যাচাই বাছাইয়ের পর বন্দর কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়ে এলসিএল পণ্য ডেলিভারির প্রক্রিয়া কেমন হবে।