চমেকে ভাতা পাসের নামে চাঁদাবাজি

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রাণু (ছদ্মনাম)। চলতি বছরে শ্রান্তি বিনোদন ভাতা পাওয়ার তালিকায় নাম রয়েছে তার। কিন্তু ভাতার বিল পাস করার জন্য এ কর্মচারীকে ‘অফিস খরচ’ দিতে হয় ৩শ’ টাকা। অথচ সেই টাকার একটি পয়সাও যায়নি অফিসে। বরং অফিসের নাম ব্যবহার করে এসব অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ মোহাম্মদ ইব্রাহিম নামে কর্মচারী সমিতির এক নেতার বিরুদ্ধে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধু রাণু নয়, চলতি বছরে শ্রান্তি বিনোদন ভাতা পাস হওয়ার জন্য শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে ৩শ’-৪শ’ টাকা পর্যন্ত গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে এ নেতার বিরুদ্ধে। যদিও বিষয়টি সামনে আসায় ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন কর্মচারীকে অর্থ ফেরত দিয়েছেন বলেও জানা গেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে হাসপাতালজুড়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

জানা যায়, মোহাম্মদ ইব্রাহিম চমেক হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক। দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করতেন হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে। অপারেশনে প্রয়োজন হওয়া ওষুধপত্রসহ যাবতীয় সামগ্রী গ্রহণ করতেন তিনি। কিন্তু বছরখানেক আগে এসব সরকারি ওষুধ ‘চুরির দায়ে’ তাকে মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগে বদলি করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভাতা প্রত্যাশী বলেন, ‘হিসাব শাখায় ভাতা পাওয়ার জন্য খরচ বাবদ প্রতিজনের কাছ থেকে ৩শ’ টাকা করে তোলার দায়িত্ব দেয়া হয় বলে ইব্রাহিম সবার কাছে দাবি করেন। এ জন্য ভাতা পাওয়ার আশায় সবাই ৩শ’ টাকা প্রদান করেন। যদিও পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে ইব্রাহিম অনেককেই টাকা ফেরত দিয়েছেন বলে জানান কেউ কেউ।’

হিসাব শাখার নাম ব্যবহার করে ইব্রাহিমের টাকা আদায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হিসাব শাখারই এক কর্মকর্তা। তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘কর্মচারীদের কাছ থেকে ইব্রাহিমের ৩শ’ টাকা আদায়ের বিষয়টি জানলে, তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করি। পরবর্তীতে সে সমিতির সভাপতিকে (মানিক) নিয়ে আমার কাছে আসে। ওই টাকা ফেরত দিয়ে দিবে বলেও আমাকে নিশ্চিত করেছে। তবে এ অনৈতিক কাজে হিসাব শাখার কেউ জড়িত নয়।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. ইব্রাহিম বলেন, ‘এটি এরকম কোন বিষয় নয়। আপনি আসেন, একসঙ্গে চা খাই, আমাদের সভাপতিসহ (মানিক) বসে কথা বলি।’

চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী সমিতির সভাপতি আব্দুল মতিন মানিক বলেন, ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব অপ্রপচার করছে। আমার সাথে বিন্দু পরিমাণ এর কোন সংশ্লিষ্টতা নেই।’

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামীম আহসান বলেন, ‘বিল পাস করতে কোন অর্থই প্রয়োজন নেই। কিন্তু কর্মচারীরা কেন আরেক কর্মচারীকে টাকা দিবে? সে তো হিসাব বিভাগেরও কেউ নয়। তবুও আমি বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি। যারা এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত আছে, অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’