চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শেষ হবে কবে?

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক:  চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজের সময় বেড়েছে আরো এক বছর। অর্থাৎ ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে তৃতীয় দফায় সময় বাড়লো। একই সঙ্গে প্রকল্পের ব্যয় ৩৬ শতাংশ অর্থাৎ এক হাজার ১৯৯ কোটি ৭১ লাখ ১০ হাজার টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।

প্রস্তাব অনুযায়ী অর্থ পাওয়া গেলে প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়াবে চার হাজার ৪৫০ কোটি ৫৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। এরপরও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হবে কিনা তা নিশ্চিত করতে পারছেন না প্রকল্প পরিচালক।

সিডিএ’র এই প্রকল্প যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স-র‍্যাঙ্কিন। ইতোমধ্যে সাড়ে ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এক্সপ্রেসওয়ের ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ চলমান।

প্রকল্প ব্যয়:

সিডিএ সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম নগরীর যানজট নিরসনের লক্ষ্যে ২০১৭ সালের ১১ জুলাই একনেক সভায় চট্টগ্রাম শহরের লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত ‘এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ’ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়।

প্রথমে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় তিন হাজার ২৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। তিন বছরের মধ্যে অর্থাৎ ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ শতভাগ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি।

দ্বিতীয় দফায় ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তৃতীয় দফায় ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। এই দফায় সময় বেড়েছে এক বছর। অর্থাৎ ২০২৩ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা। একই সময়ে প্রকল্প ব্যয় এক হাজার ১৯৯ কোটি ৭১ লাখ ১০ হাজার টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

কেন বাড়ছে ব্যয়?

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রকল্পের কাজ শুরুর পর নকশায় ত্রুটি ধরা পড়ে। এ নিয়ে আপত্তি জানায় চট্টগ্রাম বন্দর ও সিএমপির ট্রাফিক বিভাগ।

নকশায় ত্রুটি, সেবা সংস্থাগুলোর সঙ্গে পরামর্শ না করে তড়িঘড়ি করে প্রকল্প অনুমোদনের কারণে বেড়েছে ব্যয়। পরে নকশা নিয়ে বন্দর ও সিএমপির আপত্তির কারণে বেশ কিছু সংশোধন আনা হয়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সেতুর নকশা ও ভূমি জটিলতা, বিভিন্ন সংস্থার নারাজি কারণে প্রকল্পের কাজে ধীরগতি দেখা দেয়। একই সঙ্গে ব্যয় বেড়েছে। এখন চাহিদামতো অর্থ যথাসময়ে পাওয়া না গেলে প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না তাদের।

এক্সপ্রেসওয়ের নয় এলাকায় ২৪ র‍্যাম্প:

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, এক্সপ্রেসওয়ের নয় এলাকায় গাড়ি ওঠানামার জন্য ২৪টি র‍্যাম্প থাকবে। এর মধ্যে টাইগারপাস এলাকায় চারটি, আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড়ে চারটি, বারিক বিল্ডিং মোড়ে দুটি, বন্দরসংলগ্ন নিমতলী মোড়ে দুটি, কাস্টম হাউস মোড়ে দুটি, রফতানি প্রক্রিয়াকরণ কর্তৃপক্ষ (সিইপিজেড) এলাকায় চারটি, কর্ণফুলী ইপিজেড এলাকায় (কেইপিজেড) দুটি, কাঠগড় এলাকায় দুটি ও পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় থাকবে দুটি।

প্রতিটি র‌্যাম্প নির্মাণ হবে দুই লেনের। র‌্যাম্পগুলো একমুখী গাড়ি চলাচলের জন্য নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পের ব্যয় আরও এক হাজার ১৯৯ কোটি ৭১ লাখ ১০ হাজার টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব একাধিক মেগা প্রকল্পের সংযোগস্থল পতেঙ্গা বঙ্গবন্ধু টানেল, আউটার রিংরোড, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, এয়ারপোর্ট রোডসহ একাধিক মেগা প্রকল্পের সংযোগস্থল চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকা। অথচ এখানে নেই ইউলুপ, ইউটার্ন কিংবা সার্ভিস রোড। এ অবস্থায় এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে যানজট বাড়বে বলে আশঙ্কা করছে ট্রাফিক বিভাগ।