চট্টগ্রামে ‘চোখ ওঠা’ রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে

‘চোখ ওঠা’ রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: ১৮ বছরের এক যুবক মো. রাশেদ। চোখে ব্যথা, অস্বস্তি আর লালচে ভাবসহ বেশ কিছু সমস্যা নিয়ে ছুটে আসেন নগরীর পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকরা তার চোখের বিভিন্ন পরীক্ষা করে জানিয়েছেন রাশেদ ভাইরাসজনিত কনজাংটিভাইটিসে আক্রান্ত। যা ‘চোখ ওঠা’ নামেই সবার কাছে পরিচিত।

চক্ষু হাসপাতালে রাশেদ জানায়, ‘চার দিন আগেই তার চোখের নিচের অংশ প্রথমে লাল হয়ে যায়। এরপর ব্যথা অনুভব শুরু হয়। পরবর্তীতে চোখে খোঁচা অনুভব আর পানি পড়তে থাকে। পাড়ার ফার্মেসির দোকান থেকে ওষুধ নিয়ে ব্যবহার করা হলেও ভাল না হওয়ায় এখন হাসপাতালে এসেছি। এখন চিকিৎসক কিছু ঔষধ আর পরামর্শ দিয়েছেন।’

শুধু রাশেদ নয়, খোঁজ নিয়ে জানা যায়- গেল কিছুদিন ধরেই চক্ষু হাসপাতালে একই সমস্যা নিয়ে ভিড় করছেন প্রচুর রোগী। যাকে চিকিৎসকরাও অপ্রত্যাশিত বলে উল্লেখ করছেন। শুধু এ হাসপাতালেই নয়, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগ, চক্ষু চিকিৎসকদের চেম্বার এমনকি উপজেলা হাসপাতালেও একই ধরনের রোগীদের উপস্থিতি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সীতাকু- উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নুরুদ্দিন রাশেদ বলেন, ‘গেল কিছুদিন ধরেই হাসপাতালে চোখ ওঠা রোগী আসছেন। দিনে ৪-৫ জন এমন রোগী পাওয়া যাচ্ছে। পরিচিতজনদের মধ্যেও এমন রোগী আছে।’ চিকিৎসকরা বলছেন, তীব্র তাপমাত্রা আর বাতাসের আর্দ্রতা এবং আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে চোখ ওঠা বা কনজাংটিভাইটিস হয়ে থাকে। এসময় ধুলো বালিসহ নানান কারণেই চোখের এলার্জিসহ চোখ ওঠা রোগের উপসর্গ দেখা দেয়। এতে চোখ লাল হয়ে যায়, পানি পড়ে, চুলকানি হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় তাকে এটোপিক রোগীও বলা হয়।

চট্টগ্রাম জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ও চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. ওয়াজেদ চৌধুরী অভি বলেন, ‘ঋতু পরিবর্তনের কারণে এসময় চোখের রোগবালাই হয়ে থাকে। তারমধ্যে একটি হচ্ছে চোখ ওঠা। এটি আসলে একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। কনজাংটিভাইটিস বা চোখের পর্দায় প্রদাহ হলে তাকে চোখ ওঠা বলে। এতে রোগীর হাতের বা ব্যবহৃত জিনিসপত্রের সংস্পর্শে আশপাশের অনেককেই আক্রান্ত করতে পারে।

যদিও চিকিৎসকরা রোগটিকে কিছু নিয়ম মানলেই সুস্থ হওয়া যায় বলে উল্লেখ করছেন, তবে দীর্ঘস্থায়ী হলে চোখের কর্নিয়াও আক্রান্ত হতে পারে বলে সতর্ক করছেন চক্ষু বিশেষজ্ঞরা। তাই এ নিয়ে হেলাফেলা না করে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ চিকিৎসকদের।

পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালের ইনস্টিটিউট অব কমিউনিটি অফথালমোলজি বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. খুরশীদ আলম বলেন, ‘চোখ ওঠার সমস্যাটি ঋতু পরিবর্তনের সময় হয়ে থাকে। তবে এ বছর এ রোগে আক্রান্ত রোগী প্রচুর পাওয়া যাচ্ছে। হাসপাতালেও শত রোগী পর্যন্ত চিকিৎসার জন্য ভিড় করছে। এটি পুরোপুরি ছোঁয়াচে রোগ। বাঁচতে হলে কালো চশমা ব্যবহারের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শে চলতে হবে। তা না হলে লাভের চেয়ে ক্ষতিও হতে পারে।’

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. তনুজা তানজিন বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনই ৫-৭ জন চোখ ওঠা রোগী হাসপাতালে আসছেন। এটি ছোঁয়াচে হওয়ায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যও আক্রান্ত হচ্ছেন। এ সমস্যা এক সপ্তাহে বেশি স্থায়ী হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসক দেখাতে হবে। অনেক সময় দীর্ঘস্থায়ী হলে চোখের কর্নিয়াও আক্রান্ত হতে পারে। ’

চোখ ওঠা রোগীদের করণীয়
চোখ ওঠলে প্রয়োজন না হলে ঘর থেকে বের হওয়া উচিত নয়। পরিষ্কার কাপড় অথবা টিস্যু দিয়ে চোখের কোণে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে হবে। যতটা সম্ভব ওই কাপড় গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ব্যবহার করতে হবে। অন্য চোখেও যাতে না ছড়ায়, সে জন্য যতটা সম্ভব ভালো চোখটাতে হাত না দেওয়া। রাতে ঘুম থেকে ওঠার পর ব্যবহার্য জিনিসপত্র যেমন বালিশের কভার, তোয়ালে ইত্যাদি গরম পানি দিয়ে ধুয়ে দিতে হবে। ভাইরাস আক্রমণের সাত-আট দিনের মাথায় আপনা আপনি সেরে যায়। বাইরে বের হলে অবশ্যই কালো চশমা পরতে হবে। চোখে বারবার পরিষ্কার পানি দিয়ে পরিষ্কার করা বা চোখে পানির ঝাপটা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।