চট্টগ্রামের বিনোদনকেন্দ্রে মানুষের ঢল

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে ঈদের ছুটিতে চট্টগ্রামের বিনোদনকেন্দ্রে নেমেছে মানুষের ঢল। নারী-শিশু থেকে শুরু করে নানা বয়সের মানুষ ভিড় করেছেন সেখানে। কর্মব্যস্ত জীবনের ফাঁকে কয়েকটা দিন পরিবারের সঙ্গে আনন্দে মেতেছেন সবাই।

নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত, নেভাল, বোট ক্লাব, ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক, ওয়াটার ওয়ার্ল্ড, চিড়িয়াখানা, শিশু পার্ক, ভাটিয়ারি, সীতাকুণ্ড ও মিরসরাইয়ের বিনোদনকেন্দ্র দর্শনার্থীদের কোলাহলে মুখরিত হয়ে উঠেছে।

সকাল থেকে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে। নগরবাসী এবং অন্য শহরে থাকা চট্টগ্রামের মানুষের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য প্রান্তের মানুষও ঈদের ছুটিতে এসেছেন চট্টগ্রামে।

সৈকতে সাগরের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি অনেকে স্পিড বোট, ঘোড়ায় উঠে আনন্দ উপভোগ করছেন।

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায় দায়িত্বরত ট্যুরিস্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর মো. ইস্রাফিল মজুমদার জানান, ঈদের ছুটি থাকায় মঙ্গলবার (৩ মে) বিকাল থেকে সৈকতে অনেক দর্শনার্থীর সমাগম ঘটছে।

তাদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে। নেভাল একাডেমি এলাকায়ও ভিড় করছেন বিনোদনপ্রেমীরা।

চট্চটছবিট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখা যায়, পাশাপাশি এখানে সব বয়সী মানুষের ভিড় জমেছে। খাঁচায় বন্দি বাঘ, সিংহ, হরিণ, জেব্রাসহ নানা প্রজাতির পশুপাখি দেখে শিশুরা উচ্ছ্বসিত, মুগ্ধ দর্শনার্থীরা। দোলনা, রাইডে উঠে শিশুদের খেলা আর প্রিয়জনদের সঙ্গে ছবি তুলে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ জানান, অনেক দর্শনার্থী চিড়িয়াখানায় আসছেন। চিড়িয়াখানাও সেজেছে নতুন সাজে। ঈদের ছুটির এই সময়ে চার-পাঁচদিনে ৬০-৭০ হাজার দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করছেন তিনি।

এদিকে ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ও ওয়াটার পার্ক সি ওয়ার্ল্ড-এ পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। বুধবার (৪ মে) দুপুরে ফয়’স লেকে গিয়ে দেখা যায়, পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরছেন অনেকে।

কনকর্ডের উপ-ব্যবস্থাপক (মার্কেটিং) বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, ‘গত দুইবছর মহামারীর কারণে মানুষ ঈদে কোথাও বেড়াতে পারেনি। বিভিন্ন রাইড এবং সি ওয়ার্ল্ডে এখন ভিড় লেগেই আছে। ওয়েব পুল, ফ্যামিলি পুল, মাল্টিস্লাইড, ড্যান্সিং জোন লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠেছে। ছোটদের সঙ্গে বড়রাও ঝাঁপিয়ে পড়ছেন পুলে। একসপ্তাহে ৩৫-৪০ হাজার দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করছি। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ভ্রমণ পিপাসুরা রিসোর্ট ও বাংলোতে উঠেছেন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পার্ক খোলা থাকছে’।

স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে সি ওয়ার্ল্ডে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা মাহিদুর রহমান বলেন, ‘ছেলে-মেয়েরা এখানে এলে ইচ্ছেমতো পানিতে দাপাদাপি করতে পারে। তাদের সঙ্গে আমরাও আনন্দ করি। পরিবেশটা খুবই স্বস্তিদায়ক’।

এছাড়া নগরের কাজীর দেউড়ির শিশু পার্ক, বহদ্দারহাট স্বাধীনতা কমপ্লেক্স, কর্ণফুলী নদীর তীর, কাট্টলী সৈকত, সিআরবি, ওয়ার সিমেট্রিও মুখর হয়ে উঠেছে দর্শনার্থীদের আনাগোনায়।