গর্জনিয়া বাজারে মিয়ানমারের অবৈধ গরুর হাট

২৫ টি গরুসহ ট্রাক জব্দ

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

রামু প্রতিনিধি: রামু উপজেলার বৃহত্তর গর্জনিয়া বাজারে সপ্তাহে দুদিন বসে মিয়ানমারের অবৈধ গরুর হাট। এসব গরু পাচারে জড়িত কচ্ছপিয়ার ১১ জন, নাইক্ষ্যংছড়ির ২১ জন সহ একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেটে রয়েছে কথিত জনপ্রতিনিধি, চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী, কথিত মাষ্টারসহ রোহিঙ্গা প্রতিনিধি। তারা কৌশলে শত শত গরু আলী কদমের মিয়ায়নমার সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে এনে পাহাড়ি পথ দিয়ে রামু গর্জনিয়া বাজারসহ সারা দেশে পাচার করছে।

এবার এমন খবরে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহরুবা ইসলাম বুধবার( ১৮ মে) বিকাল ৫টায় ৩নং নয়াপাড়া ইউনিয়নের বাবু পাড়ায় অভিযান চালিয়ে গরু বোঝাই ট্রাক জব্দ করেন। ইউএনও বলেন অবৈধভাবে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চোরাই পথে পাচারের উদ্দেশ্যে আনা ২৫টি গরু জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত গরুর মালিকের কাছে বৈধ কোন প্রকার কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। জব্দকৃত গরু থানা হেফাজতে রয়েছে। দূর্গম নাইক্ষ্যংছড়ি-আলীকদম সীমান্ত পয়েন্টে দিয়ে আনা ২৫ চোরাই গরু জব্দ,গরুর পেটে ইয়াবা-আইস পাচার হচ্ছে কিনা তা নিয়ে সর্বত্র তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

সুত্র বলছে, মিয়ানমারের রামপুর থেকে আনা গরুর একটি চালান নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত পয়েন্ট দূর্গম পথ     দিয়ে আলীকদম বাজারের নেয়ার পথে জব্দ করেছে  উপজেলা প্রশাসন।

এ দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি ও গর্জনিয়া বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে অন্ততঃ ২১/২৫ জন মিয়ানমারের চোরাকারবারী চোরাই ব্যবসা করে। যাদের অধিকাংশের বাড়ি রামুর কচ্ছপিয়ায়। বাকীরা নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর ও দোছড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার। এরা ৫ গ্রুপে কাজ করে। আর তাদের ৩ গ্রুপ এখন আলীকদম-নাইক্ষ্যংছড়ি পয়েন্টের দূর্গম একটি পথ বেঁচে নেন। যা দিয়ে গত ১ মাসে অন্তত ২ শতাধিক গরু আনা হয়েছে ভূয়া কাগজ দেখিয়ে।

স্থানীয় একাধিক সচেতন ব্যক্তি বলেন,বর্তমানে টেকনাফ,উখিয়া ও ঘুমধুমের আদলে প্রাণীর পেটে ইয়াবা আইস আনার চেষ্ঠা করছে চোরাই গরু কারবারীরা। যা একদিকে রাজস্ব হারাচ্ছে। অন্যদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ও আলীকদমকে ইয়াবা-আইস ও চোরাই স্বর্নের জোনে পরিনত করবে।

এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়িস্থ ১১ বিজিবি অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল নাহিদ হোসেন বলেন,চোরাকারবারীদের দিন শেষ। তিনি শুনেছেন আলীকদম পয়েন্ট দিয়ে গরু পাচারের চেষ্ঠা হচ্ছে,যা নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে করা হয়েছিলো,পারে নি। এখন অন্য পয়েন্টে গেছে তারা।

তিনি আরো বলেন,তিনি ইতিমধ্যে সীমান্ত পয়েন্টে লোক লাগিয়ে দিয়েছেন খোঁজখবর নিতে। যাচাই করে কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।