গর্জনিয়া-কচ্ছপিয়াতে অবৈধ বালি উত্তোলনের মহোৎসব!

গর্জনিয়া-কচ্ছপিয়াতে অবৈধ বালি উত্তোলনের মহোৎসব!
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

রামু প্রতিনিধি: রামু উপজেলার গর্জনিয়া-কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে অবাধে অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের মহোৎস চললেও দেখার কেউ নেই।

ক্ষমতাসীনদের সাইনবোর্ড় ধারী, ২০/৩০ জনের আলাদা আলাদা সেন্ডিকেট দিন রাত ড্রেজার বসিয়ে, নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশ ও নির্মিত বেঁড়িবাধ হুমকির মুখে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের দৌছড়ি খাল, জামছড়ি, ও গর্জনিয়া ইউনিয়নের বাঁকখালী খাল এবং গর্জই খালে দিনরাত অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে করছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

বিভিন্ন সময় এসব এলাকায় উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে জেল জরিমান করলেও অবাধে বালু উত্তোলন করে চলছে তারা। দিনরাত ড্রেজার বসিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশ ও নির্মিত বেঁড়িবাধ এখন হুমকির মুখে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যন্ত্রের মাধ্যমে তীর কেটে চলমান এ উত্তোলনে ভাঙনের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে এসব পাড়ে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, অবৈধ এ বালি উত্তোলন বন্ধ না হলে ভাঙনের শিকার হবে কচ্ছপিয়া ও গর্জনিয়া নদীর দু’পাশের ফসলি জমিসহ বহু বসতঘর।

ফলে হুমকিতে পড়েছে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ। ভাঙনের শঙ্কায় উদ্বিগ্ন দিন কাটাচ্ছে বাঁকখালী ও দৌছড়ি নদীর দুই পাড়ের মানুষ। প্রশাসন এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষ বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবে। নদীসংলগ্ন গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালি উত্তোলনের ফলে নদীতে ভাঙন দেখা দেয়। মৌলভির কাটার জহির উদ্দিন, রিসাদ ও হাজির পাড়ার রাসেল আর মিয়াজির পাড়ার মেহেদী হাসান জামছড়ি খালের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতি নিয়ত ড্রেজারে বালি তুলছেন।
গর্জনিয়ার জব্বর মেম্বার, আবদুল্লাহ, মারুফ মেম্বার, তানজিদ রায়হান, ইব্রাহীন, যুবলীগ নেতা হাফেজ আহাম্মদসহ ১০/১২ জনের আলাদা আলাদা সেন্ডিকেট, বাঁকখালী ও গর্জইখালে ড্রেজার দিয়ে তুলছেন। এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বসতভিটা ও ফসলি জমি।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালি উত্তোলনের ফলে নদীর তীরবর্তী বাড়িঘর ভেঙে যাচ্ছে। মেশিনের শব্দে সৃষ্টি হচ্ছে মারাত্মক শব্দদূষণ। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা বিলীন হয়ে যাবে। অবৈধ এ বালি উত্তোলন বন্ধে আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি।

কিন্তু কোনোভাবেই বালি উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না। অথচ পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি ও নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলো টিকিয়ে রাখতে হলে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন বন্ধ করা ছাড়া উপায় নেই।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা মস্তাফা স্বর্ণা বলেন, যারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে পরিবেশের ক্ষতি করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।