গর্জনিয়া-কচ্ছপিয়ায় শশা ক্ষেতে বাম্পার ফলন

CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

রামুর গর্জনিয়া- কচ্ছপিয়াসহ আশপাশের নাইক্ষ্যংছড়ি, বাইশারী ও ঈদগড় ইউনিয়ন কৃষি নির্ভর এলাকা হওয়ায় কৃষকেরা প্রতি শুকনো বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন উৎসবকে সামনে রেখে দিনক্ষণ হিসাব করে শশার চাষ করে।

একসময় রামু উপজেলায় এ অঞলকে তামাক চাষের দূর্গম এলাকা হিসাবে পরিচিত ছিলো। তামাক চাষ এখন ব্যয়বহুল হওয়ায়, এ চাষ বাদ দিয়ে শশা চাষের দিকে ঝুকছে কৃষকেরা ,শঁশা চাষ ব্যয় আর কম বয়সে ফলন ধরে, লাভ ও হয় বেশি, বর্তমানে তামাকে চাষের কারনে ক্ষতির মুখে পড়ে অনেকে এলাকা চেড়েছে, সে কারনে বেশির ভাগ লোক তামাক চাষ করতে আর আগ্রহী হচ্ছে না, সে অনুযায়ী রামু উপজেলার এই দূর্গম গর্জনিয়া – কচ্ছপিয়ায় গত দুই-তিন বছরে প্রচুর শশার চাষ হয়েছে। এতে ফলনও ভালো হয়েছে। ফলনের বেশি লাভের আশায় অনেকে বর্ষায় ও করে থাকে, এতে ক্ষতির ঝুকি ও বেশি হয়, চাষের জমি অনুযায়ী হিসাবে দেখা যায়, এক বিঘা জমিতে শসা চাষে মোট খরচ হয় ২১-২২ হাজার টাকা। ফলন হিসাবে শশা পাওয়া যায় কমপক্ষে ২৪৫ – ২৫০ মণ।

বিঘা প্রতি শসা বিক্রি করে আয় হয় প্রায় ৪০-৫০ হাজার টাকা। সুত্র বলছে, এ বছর যারা আগাম শশা উৎপাদন করেছে তারা প্রতি মণ শসা গড়ে১ ৬০০-১৭০০ টাকা দরে বিক্রি করেছে, যা গত বারের তুলনায় বেশি। আলু চাষের পরে বোরো ধান রোপন না করে ঐ জমিতেই শশার চারা রোপন করে ফলন ও দাম ভালো হওয়ায় গত কয়েক বছরের লোকসান পুষিয়ে বাড়তি আয়ে কৃষকের চক্ষে মুখে তৃপ্তির হাসি। চলতি বছরের ৬ মাসের তিন মাসে আলুতে আয় হয় ৭০ হাজার টাকা খরচ বাদে লাভ চল্লিশ হাজার টাকা। আবার আলু চাষের পরে একই জমিতে শশা চাষের ৪০দিন থেকে ৪৫দিনের মাথায় শশা ধরতে শুরু করে। ৬৬শতক জমিতে শশা চাষ করতে খরচ হয়েছে সার, কীটনাশক, বীজসহ বিভিন্ন কাজে ৪০ হাজার টাকা। শশা বিক্রি হবে ১ লক্ষ থেকে দেড় লক্ষ টাকা। কথা বলছিলাম কচ্ছপিয়া তিতার পাড়ার কৃষক নুরুল ইসলামের সাথে, জমিতে শশা ধরেছে, শশার বাম্পার ফলনে খুব খুশি ।এক দিন পরপর জমি থেকে শশা তুলায় নগদ টাকা ঘরে আসছে । কৃষি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ খান বলেন, ‘শসা বাংলাদেশের প্রধান ও জনপ্রিয় সবজিগুলোর মধ্যে অন্যতম। শসা সাধারনত সালাত ও সবজি হিসেবে খাওয়া হয়।প্রতি ১০০ গ্রাম ভক্ষণযোগ্য শশায় রয়েছে ৯৬ শতাংশ জলীয় অংশ, ০.৬ গ্রাম আমিষ, ২.৬ গ্রাম শ্বেতসার, ১৮ মিলি গ্রাম ক্যালসিয়াম, ০.২ মিলি গ্রাম লৌহ, ক্যারোটিন ৪০ মাইক্রোগ্রাম, খাদ্যপ্রাণ সি ১০ মিলি গ্রাম।’এলাকার কৃষি বিভাগ থেকে জানা গেছে বর্তমানে এনাইক্ষ্যংছড়ির পাহাড়ি এলাকাসহ গর্জনিয়া কচ্ছপিয়া মিলে প্রায় দুই হাজার একর জমিতে শশা চাষ হয়েছে যদিও অনেকে শশা উৎপাদন শেষ করেছে।