খালাত বোনের ছোড়া এসিডের ক্ষত নিয়ে দুই বোন, ৯ বছরে শেষ হলো না বিচার

CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

২০১০ সালে ২ অক্টোবর নগরের চকবাজারের জয়নগরে নিজ বাসায় আপন খালাত বোনের হাতে ঘুমন্ত অবস্থায় দুই বোনকে এসিড নিক্ষেপের আলোচিত ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার বিচার গত ৯ বছরেও শেষ হয়নি৷ বিচারের ভাষায় মামলাটি এখনো ট্রায়েলেও উঠেনি। চলতি মাসের দুই তারিখ সেই এডিস নিক্ষেপের ঘটনার ৯ বছর পূর্তি হয়ে ১০ বছর হতে চলল। আর এখনো সেই এসিডের ক্ষত নিয়ে যন্ত্রনার জীবন কাটাচ্ছে দুই বোন। আর এসিড নিক্ষেপকারি স্বামী সংসার নিয়ে আছে বহাল তবিয়তে।

২০১০ সালের ২ অক্টোবর চকবাজার থানার জয় নগরের বাসায় দুই বোন মুনতাহা কারিনা ও সালসাবিল তাসনীমের সাথে ঘুমাচ্ছিলো আপন খালাত বোন শারমিন ফারজানা সাকি। সেই মাসের ১০ তারিখ মুনতাহা কারিনার বিয়ের দিনক্ষন ঠিকছিলো৷ বাড়িতে তাই উৎসবের আমেজ৷ কিন্তু বয়সে ছোট কারিনার বিয়েতে মনে মনে রাগ আর ঈর্ষায় জ্বলছিলো বড় খালাত বোন সাকি। লেখা পড়া আর সৌন্দর্য্যে সব দিকেই এগিয়ে ছিলো কারিনা ও তাসনীম৷ তাই সেই রাতেই পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে খালাত বোন সাকি দুই বোনের মুখে ঢেলে দেয় এসিডে। নিজেকে বাঁচাতে কৌশলে নিজের মুখেও সামান্য এসিড লাগিয়ে আহত হওয়ার ভাব ধরেছিলো সাকি৷ কিন্তু পুলিশের তদন্তে একে একে বেরিয়ে আসে আসল রহস্য৷ মামলা দায়েরের ২০ দিন পর গ্রেফতার হয় সাকি। জিজ্ঞাসাবাদে সাকি জানায় সে কেন কিভাবে এসিড ঢেকে দিয়েছিলো আপন দুই খালাত বোনকে৷ সেই সাথে এ ঘটনায় বোনকে প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে সাকির বড় ভাই ইফতেখার লতিফ সাদীকেও গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতারের তিন মাস পর জামিনে মুক্তি পায় সাকি। ২০১২ সালের ১৪ ডিসেম্বর সাকি ও তার ভাই সাদীকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। এরপর মামলার অভিযোগ গঠন করে আদালত। এরপর দীর্ঘ ৯ বছরেও বিচারকাজ শেষ না হওয়ার পেছনে আসামী পক্ষের সময় ক্ষেপনের কৌশলকে দায়ী করেছেন মামলার আইনজীবি এডভোকেট রণাঙ্গ বিকাশ চৌধুরী৷ আদালত সূত্রের বরাত দিয়ে তিনি সিপ্লাসকে জানান, আগামী নভেম্বর মাসের ২ তারিখ রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আর স্বাক্ষি তদব না করে জেরায় যাওয়ার জন্যে আদালতের কাছে আবেদন করবে৷ সেদিন আদালত বিষয়টি মঞ্জুর করলে মামলার বিচার কাজ তরান্বিত হবে হবে আশা করেন এডভোকেট রণাঙ্গ বিকাশ চৌধুরী।

জানা গেছে মামলায় জামিনে বেরিয়ে বিচার কাজের বিলম্বের সুযোগ নিয়ে মূল আসামী সাকিকে গোপনে অন্য জেলায় বিয়ে দেয়া হয়েছে ৷ সে এখন স্বামী সংসার নিয়ে সুখেই আছে। অথচ তার ছোড়া এসিডের ক্ষত নিয়ে আজো যন্ত্রনায় দিনকাটাচ্ছে দুই বোন৷ তাই হতাশায় ভুগছে ভুক্তভোগীর পরিবার। এসিড আক্রমনের শিকার মেয়েদের বাবা আনোয়ারুল মুবিন সিপ্লাসকে জানান, আমাদের মেয়েকে যে তাদেরই খালাত বোন এসিড ছুড়ে মেরেছিলো সেটি দিবালোকের মতন পরিষ্কার৷ আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে আমাদের মেয়ে দুটি বর্তমানে বিয়ে করে নিজ নিজ সংসারে গেলেও তাদের মুখের ক্ষতের কারণে এখনো স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারছেনা৷ অথচ যে এই অপরাধ করেছে সে এবং তার ভাই বেশ ভালো ভাবেই জীবন যাপন করছে৷ দীর্ঘ ৯ বছর ধরে আদালতের দ্বারে বিচার চেয়ে চেয়ে আজ নিজে অনেক ক্লান্ত উল্লেখ করে অসহায় বাবা দ্রুত মেয়েদের ওপর এসিড ছোড়ার মামলার রায় কামনা করেন৷

এই বিষয়ে মামলার চার্জশীট ভূক্ত দুই আসামীর বাবা সরকারী মহসিন স্কুলের সাবেক শিক্ষক আবদুর লতিফের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার সন্তানদের নির্দোষ দাবী করেন৷ তিনি বিষয়টিকে ষড়যন্ত্র উল্লেখ করলেও ব্যস্ততার অজুহাতে প্রতিবেদকের সাথে আর আলাপ করতে রাজি হননি।