ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন রাশিয়ার

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: ইউক্রেনকে আবারও অতিরিক্ত ৮০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। জো বাইডেন তাঁর নিজস্ব ক্ষমতা ব্যবহার করে এই সহায়তার অনুমোদন দেবেন। আগামী সপ্তাহে এ-সংক্রান্ত ঘোষণা আসতে পারে। ঘোষণার আগে প্যাকেজের অর্থের পরিমাণেও পরিবর্তন আসতে পারে। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি এখনও। এর আগে রুশ বাহিনীর হামলা প্রতিহতে জেলেনস্কি সরকারকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের নিরাপত্তা সহায়তা দিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। এসব সামরিক সহায়তার মধ্যে আধুনিক আর্টিলারি রকেট সিস্টেম হিমার্স, মর্টার, গোলাবারুদ, জ্যাভলিনসহ অনেক কিছু রয়েছে।

ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহের কঠোর সমালোচনা করে মস্কো বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা মিলে ন্যাটোকে ব্যবহার করে ইউক্রেন যুদ্ধে ইন্ধন জোগাচ্ছে। জবাবে রাশিয়া তাদের কালিনিনগ্রাদ অঞ্চলে অত্যাধুনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রে সজ্জিত যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। এলাকাটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছাকাছি অবস্থিত। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কিনঝল হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে তিনটি মিগ-৩১ যুদ্ধবিমান চকলোভস্ক বিমান ঘাঁটিতে পৌঁছেছে। কৌশলগত প্রতিরোধের অতিরিক্ত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এগুলো যুদ্ধের জন্য সবসময় প্রস্তুত অবস্থায় রাখা হবে।

এদিকে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলে দখলকৃত জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সেনাবাহিনী সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া। কারণ হিসেবে রুশ কর্মকর্তারা বলছেন, সেনাবাহিনী সরিয়ে নেওয়া হলে কেন্দ্রটি আরও বেশি স্পর্শকাতর হয়ে উঠবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশের এলাকাকে অস্ত্রমুক্ত রাখার আহ্বানও ফিরিয়ে দিয়েছে মস্কো। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও গণমাধ্যম বিভাগের উপপরিচালক ইভান নেচায়েভ বলেন, ‘সেনাবাহিনী সরিয়ে নিয়ে অস্ত্রমুক্ত এলাকা নিশ্চিতকরণ কেন্দ্রটিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলবে।’ ইউরোপের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক কেন্দ্র জাপোরিঝিয়া থেকে সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল জাতিসংঘ। জাপোরিঝিয়ায় গোলাবর্ষণের জন্য পরস্পরকে দায়ী করছে রাশিয়া ও ইউক্রেন।
বৃহস্পতিবার লভিভে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর কেন্দ্রটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে লড়াইয়ের ঘটনায় তিনি বলেন, ‘জাপোরিঝিয়ার যে কোনো সম্ভাব্য ক্ষতিসাধন হবে আত্মঘাতী।’ এরদোয়ান বলেন, ‘আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা আরেকটি চেরনোবিল চাই না। বিদ্যমান সংঘাতের একটি সমাধান খুঁজে বের করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার এই সময়ে আঙ্কারা তার ইউক্রেনীয় বন্ধুদের পাশে রয়েছে।’ বৈঠকের পর সাক্ষাৎকারে এরদোয়ান বলেছেন, জেলেনস্কি তাঁকে বলেছেন, জাপোরিঝিয়া থেকে সব মাইন রাশিয়াকে অপসারণ করতে হবে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, পুতিনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করব। বিশ্বশান্তির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে এটি রাশিয়াকে করতে হবে।বৈঠক শেষে জেলেনস্কি বলেন, ‘রাশিয়াকে শিগগিরই এবং শর্তহীনভাবে জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকা থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করতে হবে, পাশাপাশি গোলাবর্ষণ এবং যে কোনো ধরনের উস্কানিও বন্ধ করতে হবে।’

এদিকে, জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে- এমন আশঙ্কার মধ্যে শুক্রবার ওডেসা সফররত জাতিসংঘ মহাসচিব বলেছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করা কোনোভাবেই উচিত হবে না। তিনি বলেন, ‘নিশ্চিতভাবেই জাপোরিঝিয়ার বিদ্যুৎ ইউক্রেনের। এটি বন্ধ করার কোনো এখতিয়ার মস্কোর নেই। মস্কোকে কিছু নৈতিকতা অনুসরণ করতে হবে।’ খবর বিবিসি, সিএনএন, এএফপি ও আলজাজিরার।