ক্যাসিনো-জুয়ার মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের মালিক ১৫-২০ জনের তালিকা দুদকে

CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

ক্যাসিনো-জুয়ার মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন এমন ১৫ থেকে ২০ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধানে নেমেছে বলে জানিয়েছেন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। সোমবার ( ৭ অক্টোবর) সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘ক্যাসিনোর মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন এমন অভিযোগে ১৫ থেকে ২০ জনের তালিকা দুদকের হাতে এসেছে। তাঁদের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। যদিও ক্যাসিনো-সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দুদকের কাজ নয়। শুধু অবৈধ সম্পদ অর্জনের অংশটুকু দুদকের তফসিলভুক্ত।’

ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘এরই মধ্যে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়ে একজন পরিচালককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমরা আইনি পথে চলতে চাই। অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা যদি মনে করেন জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন, তাহলে তা করবেন। প্রয়োজনে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি, কোনো বিশেষ পেশা দুদকের কাছে মুখ্য বিষয় নয়। দুদকের বিচার্য বিষয় হচ্ছে দুর্নীতি হয়েছে কি না এবং তা কমিশন আইনের তফসিলভুক্ত অপরাধ কি না। যদি অপরাধটি কমিশন আইনের তফসিলভুক্ত হয়, তাহলে সে যে-ই হোক, তাকে ন্যূনতম ছাড় দেবে না কমিশন।’

এর আগে গত ১ অক্টোবর ক্যাসিনোর মাধ্যমে যাঁরা অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাটি। কমিশনের এক জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর অভিযোগ অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনকে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু করে র‌্যাব। এরপর সারা দেশে র‌্যাব ও পুলিশ অন্তত ৩৫টি অভিযানে ২৭০ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন যুবলীগ ও কৃষক লীগের তিন শীর্ষ নেতা। ক্যাসিনো কারবার করে নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন যুবলীগ, কৃষক লীগসহ অনেক রাজনৈতিক নেতা। ক্যাসিনো কারবার করে কয়েক বছরের মধ্যেই কেউ কেউ শতকোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।

এর মধ্যে বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমসহ বেশ কয়েকজনের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য বের করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কোটি কোটি টাকা, সোনাসহ গ্রেপ্তার হন সূত্রাপুরের দুই ভাই এনামুল হক ওরফে এনু ভূঁইয়া ও রুপন ভূঁইয়া।

রাজধানীর মনিপুরীপাড়ায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি লোকমান হোসেন ভূঁইয়াকে।

সর্বশেষ গত ৬ অক্টোবর নাটকীয় অভিযানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ও সহসভাপতি আরমানকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে এক জামায়াত নেতার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। একই দিন তাঁদের যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে আরো বেরিয়ে এসেছে অনেক ভিআইপি ক্যাসিনো কারবারির নাম। দুদক শুধু অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।