ক্যান্সার রোগীর নামে প্রতারণা, আদালতের কারাদণ্ড

CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তির সাক্ষর জাল করে প্রত্যয়নপত্র দেখিয়ে মাইকিং করে চিকিৎসার জন্য টাকা উঠাতে গিয়ে রাঙ্গুনিয়ায় ধরা পড়েছে এক প্রতারক। এই সময় তার সহযোগী অন্য একজন প্রতারক পালিয়ে যায়।

সোমবার (১৪ অক্টোবর) বিকালে দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ড থেকে তাকে ধরা হয়। প্রতারক ব্যক্তির নাম মো. ওসমান (৪০)। সে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মুহুরী হাট বুলবুলি পাড়া এলাকার কবির আহমদের পুত্র। প্রতারণার অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাকে ১ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান।

এসময় তার কাছে পাওয়া ৫০ কেজি চাউল স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে এতিমখানায় দিয়ে দেওয়া হয়। জব্দ করা হয়েছে একটি সিএনজি চালিত অটোরিক্সা ও দুটি মাইক।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সুত্রে জানা যায়, সিএনজি অটোরিকশায় দুইটি মাইক লাগিয়ে রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীর ক্যান্সারের কথা বলে চিকিৎসার্থে টাকা উঠাতে রাঙ্গুনিয়া আসে এই প্রতারক চক্র। চক্রটি দুইটা সিএনজি অটোরিকশায় করে একটি গাড়ি উপজেলার রাণীরহাটে ও অন্যটি দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় মাইকে পাবলিসিটি করে টাকা উঠাচ্ছিল। এসময় অটোরিকশা দুটির সামনে ও পিছনে দুটি প্রত্যয়নপত্রের ছবি সংবলিত ব্যানার লাগানো ছিল। নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যাডে লেখা এই প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর ছিল রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান, নোয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান সহ হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের। দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নে টাকা উঠাতে গিয়ে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ ও এলাকাবাসীর সন্দেহ হলে গাড়িটি দাড় করিয়ে তাদের চ্যালেঞ্জ করেন তারা। স্থানীয়দের জেরার মুখে এসময় গাড়িতে থাকা এক প্রতারক পালিয়ে যায়। পরে অন্যজনও তাকে দৈনিক ৫শত টাকার বিনিময়ে হাটহাজারী উপজেলার মুহুরীহাট এলাকার জনৈক হানিফ তাকে নিয়ে এসেছে বলে দাবী করে সে।

পরে প্রতারণার বিষয়টি স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে খবর দিলে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এসময় তিনি ২০১৮ সালের ১৩ আগস্ট তারিখে দেওয়া স্বাক্ষরগুলো জাল হিসেবে সনাক্ত করেন। আটক ব্যক্তিও নিজেকে প্রতারক হিসেবে স্বীকার করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদ- প্রদান করা হয়।

রাউজানের নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দিদারুল আলম বলেন, তাসলিমা নামে কোনো শিশুর চিকিৎসার জন্য কাউকে প্রত্যয়ন পত্র দেয়া হয়নি। এই নামের কোনো লোক আমার এলাকায় নেই। এটি ভুয়া প্রত্যয়নপত্র। ইউএনও মো. মাসুদুর রহমান বলেন,“ মো. ওসমান নামে এক প্রতারককে মোবাইল কোর্ট আইনে এক মাসের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। লোকটি রাউজানের নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের প্যাড জাল করে প্রত্যয়নপত্র দেখিয়ে চিকিৎসার জন্য টাকা তুলছিল। তাসলিমা আকতার নামে এক শিশুর মাথার টিউমার অপারেশন করার কথা লেখা আছে প্রত্যয়নে। কাগজে আমার সুপারিশ করা সাক্ষরটি জাল।”