কোভিড পরবর্তী তিন বছরে ৫৮৩ কোটি ডলার সহায়তা পেয়েছে বাংলাদেশ

কোভিড পরিস্থিতি মোকাবেলায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংক, এডিবি এবং আইএমএফ ছাড় করেছে ১.৭ বিলিয়ন ডলার।

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: কোভিড পরিস্থিতি মোকাবেলা এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে গত তিন অর্থবছরে (২০১৯-২০ থেকে ২০২১-২২) বাজেট সহায়তা এবং টিকা কেনার জন্য বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগীরা ৫৮৩ কোটি ডলার ঋণ ছাড় করেছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৭৬ শতাংশ।

কোভিড পরিস্থিতি মোকাবেলায় উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে মোট ৭.৬৯৭ বিলিয়ন ডলার আদায়ের লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

লক্ষ্যমাত্রার বাকি ১.৮৬ বিলিয়ন ডলার চলতি অর্থবছরে ছাড় হবে বলে আশা করছে সরকার।

ইআরডির কর্মকর্তারা জানান, বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাপান সরকারের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা (জাইকা)সহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাজেট সহায়তা চেয়েছিল বাংলাদেশ।

এতে বহুপাক্ষিক ছাড়াও দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো এগিয়ে আসে। উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাজেট সহায়তা নিয়ে কোভিড অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সফলতা পেয়েছে সরকার।

বর্তমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ বাজেট সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার।

এর অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ বিভিন্ন বহুপাক্তিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে সরকার।

ইআরডি এর তথ্য অনুযায়ী, উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে সরকার ইতোমধ্যেই বাজেট সহায়তায় ৪.৫ বিলিয়ন এবং ভ্যাকসিন সংগ্রহের জন্য গত তিন বছরে ১.৩ বিলিয়ন ডলার ছাড় পেয়েছে। সরকার আশা করছে, ভ্যাকসিন কেনার জন্য ২.০৭ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রার মধ্য থেকে বাকি অর্থ ছাড় হবে চলতি অর্থবছরে।

ইআরডির কর্মকর্তারা জানান, কোভিড পরিস্থিতি মোকাবেলায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংক, এডিবি এবং আইএমএফ ছাড় করেছে ১.৭ বিলিয়ন ডলার। এর পুরোটাই এসেছে বাজেট সহায়তা হিসেবে।

পরের অর্থবছরে দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগীরা এগিয়ে আসে। ওই সময়ে টিকা এবং বাজেট সহায়তার অর্থ ছাড় হয়েছিল ১.০৯ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ ৩ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা পেয়েছে ২০২১-২২ অর্থবছেরে।

উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২.৪৮ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা পাওয়া গেছে এডিবির কাছ থেকে। এছাড়া বিশ্বব্যাংক ছাড় করেছে ১.৫ বিলিয়ন ডলার এবং এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) এর কাছ থেকে পেয়েছে ১.১৫ বিলিয়ন ডলার।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, কোভিড অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে পাওয়া বাজেট সহায়তা দেশের অর্থনীতিকে ব্যাপক সহায়তা দিয়েছে।

“আমাদের রাজস্ব আহরণ কম। এ কারণে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাজেট সহায়তার প্রয়োজন হয়েছে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বাজেট সহায়তা রিজার্ভের জন্যও সহায়ক ছিল। চুক্তি হওয়ার পরই এ অর্থ রিজার্ভে যোগ হয়,” বলেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, “তবে কোভিড পুনরুদ্ধারে বাজেট সহায়তার মতো বর্তমানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্বের কারণে অর্থনৈতিক যে খারাপ অবস্থা রয়েছে, তার জন্যেও আমাদের বাজেট সহায়তার প্রয়োজন। তাছাড়া চলতি অর্থবছরে আমাদের ঘাটতি বাজেটের আকারও বড়। এ কারণে বিদেশি সহায়তা প্রয়োজন। কিন্ত এ সহায়তা আদায় আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে।”

সংশ্লিষ্টরা জানান, কোভিড অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে যেভাবে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পরিকল্পনা অনুযায়ী বাজেট সহায়তা আদায় করা হয়েছে, একইভাবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিতেও বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

ইআরডির কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় এর বাইরে বিশ্বব্যাংক থেকে অতিরিক্ত দেড় বিলিয়ন ডলার প্রত্যাশা করছে সরকার।

এরমধ্যে ইউক্রেন –রাশিয়া যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট  জ্বালানি ও খাদ্য মূল্যস্ফীতি মোকাবেলায় ১ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা চেয়ে গত জুনে বিশ্বব্যাংককে চিঠি দিয়েছে সরকার।

এছাড়া গ্রিন প্রবৃদ্ধির একটি বাজেট সহায়তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বিশ্ববাংকের সঙ্গে। গ্রিন প্রবৃদ্ধি বাজেট সহায়তা ২৫০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে জানান ইআরডির কর্মকর্তারা।

এছাড়া সম্প্রতি এডিবি’র কাছেও আরো ১ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা চাওয়া হয়েছে বলে ইআরডির কর্মকর্তরা জানান।

এদিকে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আইএমএফ এর সঙ্গে ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের আলোচনা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সবকিছু চূড়ান্ত হলে, আগামী তিন অর্থবছরের প্রতিটিতে ১.৫ বিলিয়ন ডলার করে ঋণ দেবে সংস্থাটি।

এআইআইবি-র কাছে চলতি অর্থবছরেও সরকারের ২৫০ মিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা পাওয়ার কথা রয়েছে।

বহুপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগী ছাড়াও দ্বিপাক্ষিক সংস্থাগুলোর কাছে সহায়তা চাওয়া হতে পারে বলে ইআরডির কর্মকর্তারা জানান।