কক্সবাজার হোটেল-মোটেল জোনে একাধিক ‘টর্চার সেল’, ৪ পর্যটক উদ্ধার

কক্সবাজার শহরের লাইট হাউজ এলাকা
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: কক্সবাজার শহরের হোটেল-মোটেল জোনে একটি ‘টর্চার সেলের’ সন্ধান মিলেছে। সেখানে আটকে রাখা পর্যটকসহ চারজনকে উদ্ধার করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দেশীয় অস্ত্রসহ নানা উপকরণ। পাশাপাশি ঘটনাস্থলের আশপাশে অভিযান চালিয়ে দালাল সন্দেহে ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

রোববার (৭ আগস্ট) মধ্যরাত থেকে সোমবার (৮ আগস্ট) ভোর পর্যন্ত কক্সবাজার শহরের লাইট হাউজ এলাকা সংলগ্ন আবাসিক কটেজ জোন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল করিম বলেন, কক্সবাজার শহরের লাইট হাউজ এলাকা সংলগ্ন আবাসিক কটেজ জোনে কথিত টর্চার সেলে কয়েকজন পর্যটককে দুর্বৃত্তরা জিম্মি করে রেখেছে খবরে ট্যুরিস্ট পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় সাইনবোর্ডবিহীন সন্দেহজনক ‘শিউলি’ নামের কটেজটি ঘেরাও করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রবেশপথের দরজা তালাবদ্ধ করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যান।

এ সময় জিম্মি চার পর্যটককে উদ্ধার করে পুলিশ। তারা হলেন কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ ডিককূল এলাকার হেলাল উদ্দিনের ছেলে ইফাজ উদ্দিন ইমন (১৭), একই এলাকার বেলাল আহমদের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন (১৫), টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ এলাকার নুর মোহাম্মদের দীল মোহাম্মদ (১৭) ও চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ফয়েজ আহমেদের ছেলে মো. ইমরান (১৯)।

পুলিশ আরও জানায়, এদের মধ্যে দীল মোহাম্মদ ও ইমরান উখিয়া উপজেলার পালংখালী স্টেশনের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারী। তারা রোববার সকালে কক্সবাজার বেড়াতে এসে রাতযাপনের জন্য ওই কটেজে অবস্থান করছিলেন।

উদ্ধার হওয়া অন্য দুজন কক্সবাজার শহরে মায়ের চিকিৎসা করাতে এসে রাতযাপনের জন্য ওই কটেজে উঠেছিলেন।

 

আটক দালালরা হলেন মো. আলমগীর (৪৫), মো. সেলিম (২০), আকাশ দাস (২৩), মো. জোবায়ের (২৮), মো. মামুন (২২), নাজির হোসেন (২৮), সেকান্দর আলী (২৮), মো. সোহেল (৩০), মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৩), মো. জসিম (২৭) ও মো. পারভেজ (২৫)।

পুলিশ জানিয়েছে, শিউলি নামের কটেজটির মালিককে এখনো শনাক্ত করা যায়নি। তবে কটেজটি পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন মো. রহিম ও লোকমান নামের দুই ব্যক্তি।

পুলিশ কর্মকর্তা রেজাউল বলেন, ‘নানাভাবে বলার পরও দরজার তালা না খোলায় তালা ভেঙে পুলিশ সদস্যরা ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে কটেজটির ভেতরে কক্ষগুলোতে তল্লাশি করে দুর্বৃত্তদের কাউকে না পেলেও পালিয়ে যাওয়ার গোপন পথের সন্ধান পাই। এ সময় একটি কক্ষে আটকে রাখা অবস্থায় দুই শিশু ও দুই পর্যটককে উদ্ধার করা হয়। কটেজে তল্লাশি করে পাওয়া যায় একটি ছোরা, একটি লোহার রড ও আপত্তিকর কাজে ব্যবহৃত নানা উপকরণ।’

উদ্ধার হওয়া পর্যটকদের বরাতে ট্যুরিস্ট পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, রোববার রাতে কক্সবাজার শহরের আবাসিক কটেজ জোনে কম ভাড়া কক্ষের খোঁজ নিচ্ছিল ভুক্তভোগীরা। এ সময় চলাচলের রাস্তায় অবস্থানকারী লোকজন কম ভাড়ায় কক্ষ ভাড়া দেওয়ার কথা বলে সাইনবোর্ডবিহীন শিউলি নামের কটেজটিতে নিয়ে যান।

‘পরে তারা (ভুক্তভোগী) কটেজের ভেতরে গিয়ে দেখতে পান, কক্ষগুলোতে পর্যটকদের থাকার মতো পরিবেশ নেই। এ সময় কটেজে ৫-৬ জন পুরুষ ও তিনজন নারীকে দেখতে পান। এরপর ওই নারীদের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ছবি তুলে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন। হাতিয়ে নেওয়া হয় সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন। পরে আরও টাকার জন্য স্বজনদের জানাতে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়।’

হোটেল-মোটেল জোনে দেড় শতাধিক আবাসিক কটেজ রয়েছে জানিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল করিম বলেন, এগুলোর মধ্যে অন্তত ২০-৩০টি কটেজ রয়েছে সাইনবোর্ডবিহীন। সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা মূলত সাইনবোর্ডবিহীন কটেজগুলোকে ‘টর্চার সেল’ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। এরকম আরও কয়েকটি কটেজ টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহারের তথ্য রয়েছে পুলিশের।

পরে শিউলি কটেজের আশপাশে অভিযান চালিয়ে দালাল সন্দেহে ১১ জনকে আটক করা হয় বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।

রেজাউল করিম জানান, আটকদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা করা হয়েছে। তাদের সদর মডেল থানায় সোর্পদ করা হয়েছে।