কক্সবাজারের এক ওয়ার্ডের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫শতাধিক রোহিঙ্গা শিক্ষার্থী!

CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

কক্সবাজার পৌর এলাকার ৭ নং ওয়ার্ডের ৫ টি শিক্ষা প্রতিষ্টানে অন্তত ৫ শতাধিক রোহিঙ্গা শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে বলে ধারনা করছেন খোদ সে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্টরা।

তবে তারা বেশির ভাগই ২০ থেকে ২৫ বছর আগে আসা রোহিঙ্গাদের ছেলে মেয়ে। যারা বর্তমানে অনেকেই এনআইডি কার্ড, জন্ম নিবন্ধন পেয়ে গেছে এবং সবার মা বাবা বর্তমানে এখানে বসবাস করছে।

সচেতন মহলের দাবী, পুরো কক্সবাজারে কি পরিমাণ রোহিঙ্গা শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে তার একটি জরিপ করা দরকার এবং তাদের বিষয়ে সরকারের একটি দ্রুত সিদ্ধান্তে আসা জরুরী।

তবে প্রাথমিক ভাবে তাদের সনাক্ত করে তাদের শিক্ষা সনদে মায়ানমারের নাগরিক লেখা থাকার বিশেষ ব্যবস্থা রাখারও দাবী জানিয়েছে সুশীল সমাজ।

কক্সবাজারের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কি পরিমাণ রোহিঙ্গা শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে তার একটি খসড়া জরিপ করতে গিয়ে কক্সবাজার পৌরসভার রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত ৭নং ওয়ার্ডের ৫ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে এমন ভয়াবহ তথ্য। তাদের দাবী এখানে কমপক্ষে ৫ শতাধিক রোহিঙ্গা শিশু লেখাপড়া করছে। তবে তাদের রোহিঙ্গা হিসাবে সনাক্ত করার কোন উপায় নাই কারণ প্রত্যেকের জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং মা বাবার আইডি কার্ড রয়েছে। তবে এলাকার মানুষ জানে তারা সবাই আগে আসা রোহিঙ্গা। যারা বর্তমানে এখানে স্থায়ী হয়ে গেছে এর মধ্যে অনেক প্রভাবশালীরাও আছে।

বইল্লা পাড়া ডি ওয়ার্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃষনা বড়ুয়া জানান, এই স্কুলে মোট শিক্ষার্থী ৬৫০ জন। এর মধ্যে প্রায় ১০০ জনের মত রোহিঙ্গা শিশু থাকতে পারে।

তিনি জানান,জন্ম নিবন্ধন দেখে আমরা শিশুদের স্কুলে ভর্তি করাই তবে পাশাপাশি আমরা সবাই এখানকার বাসিন্দা সবাইকে চিনি। এলাকার মানুষও জানে তাদের বাবা অথবা মা অনেক আগে আসা রোহিঙ্গা। তবে কাগজ পত্র দিলে আমাদের কিছুই করার থাকেনা।

এ সময় সহকারী শিক্ষক ডেজিনা ইয়াছমিন বলেন,আমরা যখন ভোটার তালিকা করতে মাঠ পর্যায়ে যাই সে সময় রোহিঙ্গা হিসাবে জেনে যাদের বাদ দিয়ে আসি পরবর্তীদের দেখা গেছে তাদের ছেলে মেয়েরা জন্ম নিবন্ধন সনদ,চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট এবং অন্য জায়গা থেকে মা বাবার আইডি কার্ড করে নিয়ে এসেছে তখন বাধ্য হয়ে ভর্তি করাতে হয়।

আবার দেখা গেছে প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় থাকলেও দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষায় অনুপস্থিত পরে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে এরা রোহিঙ্গা তাই এখান থেকে হয়ত অন্যত্র চলে গেছে।

পাহাড়তলীর ভেতরে হুসনা হক কেজি স্কুলে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখানে মোট শিক্ষার্থীর বেশির ভাগই আগে আসা রোহিঙ্গা শিশু।

জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক হুমায়রা বেগম বলেন,আমাদের স্কুলে মোট শিক্ষার্থী ৩৭৫ জন এর মধ্যে রোহিঙ্গা শিশু থাকতে পারে প্রায় ৫০ জনের মত। আমার এখানে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র ছাড়া কোন শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয় না। আর তারা কাগজ এনে দিলে আমাকে তো ভর্তি করাতে হবে।

তিনি জানান, সম্প্রতি ক্যাম্প থেকে আসা কোন রোহিঙ্গা শিশু নাই তবে আগে আসা অনেকে যারা এখানে স্থায়ী হয়ে গেছে ঘরবাড়ি করে ফেলেছে সে রকম হয়তো থাকতে পারে। তবে অনেক মা-বাবা নিজেদের একটি বিশেষ শ্রেনীতে নিয়ে যাওয়ার জন্য সন্তানদের আরো ভাল স্কুল গুলোতে পড়ায়। যদি সরকার আমাদের কোন নির্দেশনা দেয় তাহলে সেটা আমরা পালন করবো।

তবে এখানকার কয়েকজন অভিভাবকের দাবী এখানে অন্তত দেড় শতাধিক আগে আসা রোহিঙ্গার ছেলে মেয়ে লেখাপড়া করে।

তবে এলাকাবাসীর দাবী সব চেয়ে বেশি রোহিঙ্গা শিশু পড়ে ওয়ামী একাডেমীতে যেখানে বেশির ভাগ শিক্ষক পরিচালকও রোহিঙ্গা। তারা রোহিঙ্গাদের অনুদানেই চলে।

এখানে অন্তত ২০০র বেশি শিশু লেখাপাড়া করছে এখান থেকে নিয়মিত জেএসসি, পিএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে এবং এটা রোহিঙ্গাদের প্রতিষ্ঠান হিসাবেই সবাই চিনে এখানে রোহিঙ্গা শিশুদের উল্টো টাকা দেওয়া হয় বলেও জানান এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান হাবিব উল্লাহর সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

দক্ষিন রুমালিয়ারছড়া এলাকার এবিসিঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেহেনা বেগম জানান এই স্কুলের মোট শিক্ষার্থী ৩৫৩ জন এর মধ্যে ৭০-৮০ জন আগে আসা রোহিঙ্গাদের ছেলে মেয়ে থাকতে পারে। আর আমি এই স্কুলে এসেছি বেশি দেরী হচ্ছেনা তাই ভাল করে সব কিছু জানবো না।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২ জন সহকারী শিক্ষক বলেন এখানে শতাধিক শিশু থাকবে যাদের মা অথবা বাবা রোহিঙ্গা।

পাহাড়তলী আদর্শ কেজি স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাস্টার জসিম উদ্দিন বলেন, আমাদের স্কুলে সর্বোচ্চ ১০-১৫ জন রোহিঙ্গা শিশু থাকতে পারে। তবে আমাদের এখানে বেশির ভাগই স্থানীয় ছেলেমেয়েরাই পড়ে। যেহেতু এখন কে রোহিঙ্গা সেটা সনাক্ত করা কঠিন তাই অনেক সময় তারা প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র দিলে ভর্তি করাতে হয়।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে মায়মুনা(রাঃ) মাদ্রাসা,বাচাঁ মিয়ার ঘোনা দাখিল মাদ্রাসা,মোজাহেরুল উলুম নুরানী মাদ্রাসা,নজির ঘোনার হুমায়রা(রাঃ) মাদ্রাসায়ও অসংখ্য রোহিঙ্গা শিক্ষার্থী বর্তমানে অধ্যয়নরত আছে।

এ ব্যাপারে উখিয়া ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক অজিত দাশ বলেন,এখনি সময় এসেছে সরকারের উদ্যোগে একটি বিশেষ কর্মসূচী হাতে নেওয়ার। যাতে কক্সবাজারে ঠিক কি পরিমান রোহিঙ্গা শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে তাদের একটি খসড়া তালিকা করা যায়।

পাশ্ববর্তি দেশ যদি ৬৫ বছর পরে নাগরিকত্ব তালিকা করতে পারে আমরা কেন পারবোনা। তাহলে রোহিঙ্গা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আরো সুবিধা হবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন কক্সবাজারের সভাপতি প্রফেসর এম এ বারী বলেন,যদি একটি ওয়ার্ডে ৫ শতাধিক রোহিঙ্গা শিক্ষার্থী থাকে তাহলে পুরো জেলায় কত থাকবে ? এদের মধ্যে প্রতি বছর কতজন পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে ?

কতজনকে কোন দিক থেকে ঠেকাবে তাই আমার মতে রোহিঙ্গা শিক্ষার্থীদের সনাক্ত করে তাদের শিক্ষা সনদে বিশেষ ব্যবস্থায় মায়ানমারের নাগরিক লেখা থাকলে তাহলে তারা আর দেশের সরকারি চাকুরী বা সুযোগ সুবিধা পাবেনা।