ওয়াসার এমডি’র ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বিএফআইইউ

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী তাকসিম এ খান ও তার পরিবারের সদস্যদের সব ধরনের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে দেশের ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

বুধবার (২৪ আগস্ট) ব্যাংকগুলোতে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন বিএফআইইউ এর সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।

আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তাকসিম খানের ব্যাংক হিসাবের তথ্য দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২০০৯ সালে ওয়াসার এমডি পদে প্রথমবারের মতো নিয়োগ পান তাকসিম। বহু বিতর্ক ও সমালোচনা সত্ত্বেও তার মেয়াদ ছয়বার বাড়ানো হয়। বর্তমানে তিনি মাসে ৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা বেতন-ভাতা পান।

তাকসিমের মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে নীতিমালা না মানার অভিযোগও উঠেছে।

এছাড়া ওয়াসার এমডির বিরুদ্ধে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি, ঠিকাদার নিয়োগে সিন্ডিকেট, ঘুষ, চুক্তিভিত্তিক পদ তৈরি করে পছন্দের লোক নিয়োগ, অপছন্দের লোকদের ওএসডি করাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াসার প্রকল্পগুলো সময়মতো শেষ হচ্ছে না। বিভিন্ন প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানো হয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্পের নকশা ও বিবরণ অনুযায়ী কাজ করা হয় না।

তিনি একটি প্রকল্পের জন্য পরামর্শদাতা এবং ঠিকাদার নির্বাচনের সময় এমন কিছু শর্ত আরোপ করেছিলেন যাতে নির্দিষ্ট সংখ্যক ঠিকাদার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে।

এ ছাড়া ঠিকাদার বাছাইয়ে সিন্ডিকেট পদ্ধতি, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার ও কাজের বিনিময়ে ঘুষ নেওয়া বর্তমানে একটি সাধারণ অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দুদকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যক্তিমালিকানাধীন ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন, মিটার রিডিং ও রাজস্ব আদায়ে ব্যাপক দুর্নীতি হচ্ছে।

ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খানের প্রত্যক্ষ সহায়তা ও নির্দেশে ঢাকা ওয়াসা কর্মচারী বহুমুখী সমবায় সমিতির ১৩২ কোটি ৪ লাখ ১৭ হাজার ৪৬০ টাকা ছয়টি ব্যাংক থেকে আত্মসাৎ করা হয়।

এই আত্মসাতের তথ্য প্রকাশ করা হয় ২০১৮-২০২০ সালের একটি অডিটের সময় ।

এ ঘটনায় অন্য আসামিরা হলেন- ওয়াসার সচিব শারমিন হক আমির, সাবেক রাজস্ব পরিদর্শক এম মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত প্রকৌশলী এম আখতারুজ্জামান, রাজস্ব পরিদর্শক এএইচএম জাকির হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী এম বদরুল আলম, উপসচিব শেখ এনায়েত আবদুল্লাহ, উপ-প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এম. সালেকুর রহমান এবং জনতা ব্যাংকের কারওয়ান বাজার করপোরেট শাখার সাবেক উপ-ব্যবস্থাপক ও শাখা ব্যবস্থাপক শ্যামল বিশ্বাস।