ওসি প্রদীপ ও চুমকির আদালতে নির্দোষ দাবি

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: চট্টগ্রামে প্রায় ৪ কোটি টাকার দুর্নীতি মামলায় ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকি কারনের বিরুদ্ধে ৩৪২ ধারায় আসামি পরীক্ষা শেষ হয়েছে।

প্রদীপ ও তার স্ত্রীর পক্ষে সাফাই সাক্ষী দিতে তিন জনের নাম আদালতে জমা দিয়েছেন প্রদীপ। গতকাল রোববার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মুন্সী আবদুল মজিদের আদালতে এসব শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ১৩ জুন সাফাই সাক্ষ্য গ্রহনের দিন ধার্য করেছে আদালত। প্রদীপ ও চুমকি আদালতে হাজির ছিলেন।

সাফাই সাক্ষীরা হলেন- বোয়ালখালী উপজেলার সারোয়াতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. বেলাল হোসেন, মেম্বার আবদুল জলিল ও মেম্বার অনুকুল চৌধুরী।

দুদক পিপি আইনজীবী মাহমুদুল হক মাহমুদ বলেন, দুর্নীতি মামলা আসামি ওসি প্রদীপ ও স্ত্রী চুমকি কারনকে ৩৪২ ধারায় আসামি পরীক্ষা করা হয়েছে। আসামিরা আদালতে জবানবন্দি দিয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। আদালতে তিন জন সাফাই সাক্ষীর নাম জমা দিয়েছেন তারা। আগামী ১৩ জুন সাফাই সাক্ষী নেওয়ার দিন ধার্য করেছে আদালত।

দুদক চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম নগরের পাথরঘাটায় ছয়তলা বাড়ি, ষোলশহরের বাড়ি, ৪৫ ভরি সোনা, একটি করে কার ও মাইক্রোবাস, ব্যাংক হিসাব এবং কপবাজারের একটি ফ্ল্যাটের মালিক প্রদীপের স্ত্রী চুমকি কারন।

তার ৪ কোটি ৮০ লাখ ৬৪ হাজার ৬৫১ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিপরীতে বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ২ কোটি ৪৪ লাখ ৬৬ হাজার ২৩৪ টাকার। তাঁর ২ কোটি ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার ৪১৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের সত্যতা পায় দুদক।

এছাড়া চুমকি নিজেকে মৎস্য ব্যবসায়ী দাবি করলেও এর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

প্রদীপের ঘুষ, দুর্নীতির টাকায় তার স্ত্রী কোটিপতি হয়েছেন। তারা বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৫ হাজার ৬৩৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভুত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে অভিযুক্ত।

২০২১ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকি কারনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় চার্জ গঠন করে আদালত।

২৬ জুলাই দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন আদালতে চার্জশিট জমা দেন। ১ সেপ্টেম্বর চার্জশিটের ওপর শুনানি হয়। চলতি বছরের গত ২৯ জুন দুপুরে চট্টগ্রাম সিনিয়র স্পেশাল জজ ও মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত প্রদীপ কুমার দাশের অবৈধ সম্পদ দেখভালের দায়িত্ব কপবাজার ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে দেন।

গত ২০ সেপ্টম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিনের করা আবেদনের শুনানি শেষে মহানগর সিনিয়র স্পেশাল দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত তাদের অবৈধ সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দেন।

২০২০ সালের ২৩ আগস্ট দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে প্রদীপের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেন।

প্রসঙ্গত, মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডে দণ্ডিত ওসি প্রদীপ।

বোয়ালখালী উপজেলার সারোয়াতলী ইউনিয়নের উত্তর সারোয়াতলী গ্রামের মৃত হরেন্দ্র লাল দাশের ছেলে। নগরীর কোতোয়ালি থানার পাথরঘাটা আর সি চার্চ রোডে তাদের নিজস্ব একটি আবাসিক ভবন আছে। সেই ভবনে তার চুমকি কারণ সন্তানদের নিয়ে তিনি বসবাস করতেন।