এবার ধর্মান্তরিত না করার মুচলেকা দিতে হবে ভারতীয় এনজিওদের

ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যের আদিবাসী-অধ্যুষিত ম্যাকলাক্সিগঞ্জ, যেখানে সক্রিয় অনেক এনজিও
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

ভারতে গত বেশ কয়েক বছর ধরে বিদেশি সাহায্যপ্রাপ্ত এনজিওগুলোর কার্যকলাপে সরকার নানা ধরনের বিধি-নিষেধ আরোপ করছে। এবার তাতে নতুন বিধি-নিষেধ সংযোজন করেছে দেশটির সরকার।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনায় বলা হচ্ছে, যেসব এনজিও বিদেশ থেকে তহবিল পেয়ে থাকে তাদের কর্মীদের মুচলেকা দিয়ে জানাতে হবে যে কখনও ধর্মান্তরে জড়িত ছিলেন না বা ধর্মান্তরের মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন না। নইলে সেই এনজিওকে ভারতে কাজ করতে দেওয়া হবে না।শুধু ধর্মান্তর নিয়ে মুচলেকাই নয়, ভারতে এনজিও কর্মীদের এখন থেকে এটাও বিবৃতি দিয়ে জানাতে হবে যে তারা বিদেশ থেকে পাওয়া তহবিল কোনভাবে তছরুপ করেননি এবং দেশদ্রোহমূলক কোনও বার্তাও প্রচার করছেন না।

শাসক দল বিজেপির নেতারা যুক্তি দিচ্ছেন, কার্যক্রমের আড়ালে বহু এনজিও জোর করে বা লোভ দেখিয়ে লোকজনকে ধর্মান্তরিত করছে বলেই এই মুচলেকা জরুরি – কিন্তু ভারতের বহু এনজিও-ই এই সিদ্ধান্তে প্রবলভাবে হতাশ।

পশ্চিমবঙ্গের ‘পরিচিতি’ নামে এনজিওর কর্ণধার অঞ্চিতা ঘটক যেমন বলছেন, “এতো খুব সাংঘাতিক জিনিস! এখনই আমাদের এত রকম আইনি নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয় যে বলার নয়, তার মধ্যে আবার একটা নতুন ঝামেলা আনা হল।”

“আর কত ধরনের ডিক্ল্যারেশন আমাদের কাছ থেকে আদায় করবে? আমরা তো এ দেশেরই নাগরিক, স্বাধীনভাবে এখানে আমাদের তো কাজ করার অধিকার আছে, তাই না? কেন আমাদের মুচলেকা দিয়ে বারবার বলতে হবে অমুকটা করব না, তমুকটা করব না?”

সরকারের তরফ থেকে এই ধরনের দাবি আসলে সেটা তাদের জন্য খুবই অবমাননাকর বলেও দাবি করেছেন অঞ্চিতা ঘটক। তার কথায়, “বলছি না যে কোনও এনজিও-ই তহবিল অপব্যবহার করে না। কিন্তু বিদেশি অর্থ হলেই সেটার অপব্যবহার হতে পারে, আর ভারতের টাকা হলেই সেটার সঠিকভাবে ব্যবহার হবে – এটাই বা কেমন যুক্তি?”

সূত্র: বিবিসি বাংলা