উৎসবের আমেজ, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনীতে যাবেন শরীয়তপুরের ১ লাখ নেতাকর্মী

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে শরীয়তপুর শহরে এখন উৎসবের আমেজ। অনুষ্ঠিতব্য সমাবেশ সফল করতে শরীয়তপুর জেলা শহরসহ ৬টি উপজেলা থেকে মুক্তিযোদ্ধাসহ ১ লাখ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী যোগ দেবেন।

এ তথ্য জানিয়েছেন শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ও মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাট এলাকায় জনসভাকে ঘিরে শরীয়তপুরে রঙ-বেরঙের ব্যানার-ফেস্টুন, বড় বড় তোরণ তৈরিসহ শরীয়তপুরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

জানা যায়, আগামী ২৫ জুন সকাল ১০টায় পদ্মা বহুমুখী সেতু উদ্বোধন করবেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে উদ্বোধনের দিন মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাংলাবাজার ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী ফেরিঘাটে জনসভা করবে আওয়ামী লীগ। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে জনসভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জনসভায় ১০ লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে বলে প্রত্যাশা করছে দলটির নেতাকর্মীরা। এরই ধারাবাহিকতায় শরীয়তপুর থেকে প্রায় ১ লাখ নেতাকর্মী সমাবেশস্থলে যাবেন।

নড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাস্টার হাসানুজ্জামান খোকন জানান, ২৪ জুন শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পানি সম্পাদক উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীমের নির্দেশনায় শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া, সখিপুর থেকে ৮টি বিলাসবহুল লঞ্চ ও পাল তোলা নৌকাসহ ২শ ট্রলার যাবে জনসভাস্থলে। এ সফরের লঞ্চ, পাল তোলা নৌকা ও ট্রলারের ভাড়া এবং ২৫ হাজার নেতাকর্মীর খাবারের ব্যয় বহন ও প্রত্যেকের জন্য টি-শার্টের ব্যবস্থা করছেন উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম।

তিনি আরও জানান, ২৫ জুন সকাল সাড়ে ৮টায় পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী সমাবেশে অংশ নেবেন এসব নেতাকর্মীরা।

এদিকে শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপুর নেতৃতে শরীয়তপুর জেলা সদর থেকে ১৫টি বাস, ৭ হাজার মোটরসাইকেল জনসভাস্থলে যাবে বলে জানিয়েছে সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসেন।

তিনি আরও জানান, এছাড়াও সিএনজিসহ বিভিন্ন যানবাহনে যাবে লোকজন। এ আনন্দ যাত্রায় ২০ হাজার নেতাকর্মী অংশ নেবেন। এ ২০ হাজার নেতাকর্মীর খাবারের ব্যয় বহন করবেন শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু।

২৫ জুন সকাল সাড়ে ৮টায় পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী সমাবেশে অংশ নেবেন পালং জাজিরার নেতাকর্মীরা। এছাড়াও ডামুড্যা উপজেলা থেকে ২টি লঞ্চ, ১০টি রড় ট্রলার, গোসাইরহাট উপজেলার থেকে ৩টি লঞ্চ ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা থেকে ১০টি বাস, ১০টি মাইক্রো ও ট্রাক যাবে জনসভা স্থলে। তাতে প্রায় ১৫ হাজার লোক হবে বলে জানিয়েছে বলে জেলা যুবলীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আবদুল রশিদ গোলন্দাজ।

আরও জানা গেছে, স্বপ্নের সেতুর উদ্বোধনী সমাবেশে শরীয়তপুর জেলার মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রায় সব জনপ্রতিনিধি, জেলা, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী অংশ নেবেন।

জানা গেছে, মাওয়া প্রান্তে ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর সেতু পেরিয়ে তিনি আসবেন জাজিরা প্রান্তের টোল প্লাজায়। সেখানে কয়েকটি স্থাপনার উদ্বোধন করে মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়িতে গিয়ে জনসভায় ভাষণ দেবেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, এরই মধ্যে ওই এলাকায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলামের ছবি ও ফেস্টুন লাগানো হয়েছে। পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজের বিভিন্ন সময়ের কর্মকর্তাদের পরিদর্শন করার ছবি লাগানো হয়েছে।

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে অনুষ্ঠিতব্য সমাবেশে আগমনকে ঘিরে বর্ণিল রূপে সেজেছে শরীয়তপুর শহরসহ ৬টি উপজেলা। রঙ-বেরঙের ব্যানার, ফেস্টুন, নিশান, তোরণের পাশাপাশি চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে পদ্মার পাড়সহ শরীয়তপুর শহর।

শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সাহসিকতায় আজ পদ্মা সেতু নির্মিত হয়েছে। এটা পৃথিবীতে বিরল। স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে অনুষ্ঠিতব্য সমাবেশ সফল করতে আমরা শরীয়তপুর থেকে প্রায় ১ লাখ লোক জনসভাস্থলে যাব।