উখিয়ায় ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’র আশঙ্কায় আগাম ধান কাটছে কৃষক

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

উখিয়া প্রতিনিধি: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় অশনি’র প্রভাবে উপকূলীয় উখিয়া উপজেলার ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কায় আধপাকা ধান কেটে ফেলছেন কৃষকরা। বিস্তীর্ণ ধান ক্ষেতে বোরো চাষাবাদের সোনালী শীষের ভারে নুয়ে পড়েছে গাছ। পানির সংকটের কিছুটা চিন্তা থাকলেও তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। পাকা ধানের মৌ মৌ গন্ধে কৃষান-কৃষানীরা মাতোয়ারা। কৃষকেরা তাদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অর্জিত ফসল কাটা শুরু করেছে। তবে শ্রমিক সংকটের কারণে অনেকের পাকা ধান কাটার সময় উৎরে গেলেও ঘরে তুলতে পারছেনা। কৃষকেরা মনে করছেন এসময়  ঘূর্ণিঝড় অশনি’র প্রভাব না পড়লে বোরোর বাম্পার উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

হাজির পাড়া গ্রামের কৃষক ওসমান গণি জানান, ঝড় হবে এমন খবর পেয়ে ক্ষেতের সব ধান কেটে ফেলা হয়েছে। ধানের ফলন ভালো, কিন্তু পুরোপুরি পাকেনি। তবুও কেটেছি যদি ঝড়ে ক্ষতি হয়। এখন লোকজন নিয়ে দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি যেন নিরাপদে ধান ঘরে তুলতে পারি।

সিকদার বিল গ্রামের মাস্টার জানে আলম জানান, পানির অভাবে লক্ষ্যমাত্রা চাষাবাদ করতে ব্যর্থ হলেও ভাল ফলন উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বোরো চাষাবাদে ইঁদুরের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় পাকা ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। তাই আগে ভাগে ধান ঘরে তোলার জন্য শত চেষ্টা করেও শ্রমিক সংকটের কারণে পারা যাচ্ছে না। আগে রোহিঙ্গা শ্রমিক দিয়ে কাজ করা সম্ভব হতো। বর্তমানে ক্যাম্পে কড়াকড়ি আরোপ করায় রোহিঙ্গারা বের হতে পারছে না বিধায় শ্রমিক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।

ফলিয়াপাড়া গ্রামের পেশাদার কৃষক আব্দুর রহমান জানান, মাছকারিয়া বিলে সে প্রায় ৫ একর জমিতে বোরো চাষাবাদ করেছে। সে জানায় এবার কানি প্রতি একশত আড়ি ধান নিশ্চিত আশা করা হচ্ছে। তবে শ্রমিক সংকটের কারণে পাকাধান ঘরে তুলতে না পারায় বৃষ্টির আশংকা নিয়ে দুচিন্তায় ভুগতে হচ্ছে।

উখিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে ৬ হাজার ৪শত ৬০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও গত বছর ফলন ভাল হওয়ায় এবার কৃষকেরা দ্বিগুন উৎসাহে উৎসাহিত হয়ে লক্ষ্যমাত্রা চাইতে বেশি জমিতে বোরো চাষাবাদ করেছে।

উখিয়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ তালুকদার জানান, যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে, তাতে বোরো ধান বা ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা কম। তবে বৃষ্টি বাড়লে ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে। ইতিমধ্যে আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। যার কারণে ইতোমধ্যে ৭৫ ভাগ জমির ধান কাটা হয়ে গেছে। বাকি জমির ধানও অল্প সময়ের মধ্যে কাটা হবে। কৃষকরা দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে ধান ঘরে তোলার জন্য।