ঈদ বোনাসের দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ: পুলিশের প্রতিরোধ

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: শিল্পাঞ্চল ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়ায় ঈদ বোনাস ও ছুটি বৃদ্ধির দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।

রোববার দুপুরে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকার স্কাইলাইন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা দাবি আদায়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করেন এবং কয়েকটি বাস ভাঙচুর করেন।

শ্রমিকরা জানান, এপ্রিল মাসের পুরো বেতন, ঈদ বোনাস ও ঈদের ছুটির বৃদ্ধির দাবির বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষকে কয়েকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ একটি দাবিও মানবে না। এজন্য শ্রমিকরা আন্দোলন করতে বাধ্য হয়েছে।

তারা আরও জানান, আশপাশের কারখানাগুলোতে ঈদের ছুটি ১০ দিন করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের কারখানা মাত্র সাত দিনের ছুটি দিয়েছে। ছুটি ১০ দিন করার জন্য দাবি জানানো হলে কারখানা কর্তৃপক্ষ রাজি হয়নি। এছাড়া বেসিক বেতনের অর্ধেক বোনাসের জন্য দাবি জানানো হয়।

শ্রমিকরা জানান, তাদের বেতন ৮ হাজার টাকা, আর বোনাস দাবি করা হয়েছে এর অর্ধেক মানে ৪ হাজার টাকা। কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ কাউকে এক হাজার আবার কাউকে দেড় হাজার এবং সর্বোচ্চ ২৫০০ টাকা বোনাসের বেশি দেবে না। তাই বাধ্য হয়েই রাস্তায় নামতে হয়েছে।

এদিকে মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদের বোঝানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এ সময় শ্রমিকরা গাছের গুঁড়ি ও গাছ এনে রাস্তায় ফেলেন। একপর্যায়ে শ্রমিকদের নিবৃত্ত করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এ সময় শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন।

এ সময় পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কয়েকটি বাস ভাঙচুর করেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এ ব্যাপারে স্কাইলাইন গ্রুপের অ্যাডমিন অফিসার আতাউর রহমান জানান, কারখানায় কাজের চাপ থাকায় শ্রমিকদের ঈদের ছুটি সাত দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। তাদের দাবি ছিল ১০ দিন। এজন্য শ্রমিকরা আন্দোলন করেছেন। তবে কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের দাবিগুলো মেনে নিয়েছে। এ ঘটনায় অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

শিল্প পুলিশ-১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিক হোসেন খান জানান, ঈদের ছুটি নিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শ্রমিকদের ঝামেলা হয়েছিল। শ্রমিকদের দাবি ছিল ১০ দিন আর কারখানা কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করেছে সাত দিন। এ নিয়ে শ্রমিকরা সড়কে নামেন। তারা কারখানার বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেছেন। বিষয়টি নিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।