ঈদগাঁওতে পরিবহণ শ্রমিককে ব্রেক অয়েল খাইয়ে হত্যার অভিযোগ

আলী (২৫)
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সেলিম উদ্দীন,ঈদগাঁও প্রতিনিধি: জোরপূর্বক গাড়ির ব্রেক অয়েল খাইয়ে দিয়ে আলী (২৫) নামের এক পরিবহন শ্রমিককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আলী সদর উপজেলার ভারুয়াখালি ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের আদর্শগ্রাম এলাকার কলিম উল্লাহর ছেলে। সে ঈদগাহ লাইনের পরিবহণ শ্রমিকের কাজ করতো বলে জানা গেছে।

তবে এই হত্যাকান্ড ধামচাপা দিতে লাখ টাকার মিশন নিয়ে কাজ করছে একটি চক্র। নিহতের পরিবার থেকেও টাকা পেলে আর কোন আইনি প্রক্রিয়ায় যাবেন না এমনটা ধারণা করা হচ্ছে।

নিহতের আত্নীয় শহিদ জানিয়েছে, আলীকে হত্যা করা হয়েছে। আলীর পরিবার গরীব। যারা হত্যা করেছে তাদের সাথে বসে আলাপ আলোচনা করে সমঝোতার চেষ্টা চলছে। তারা যদি কথা না মানে তবে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অভিযোগে জানা গেছে, নিহত আলী গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিল। এরপর গত ৭ সেপ্টেম্বর তাকে ঈদগাঁও বাজারে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেলে প্রথমে রামু হাসপাতালে পাঠানো হয় পরে সেখান থেকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে গতকাল শুক্রবার ( ৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মারা যান।

খবর পেয়ে ঈদগাঁও লাইনের লাইনম্যান মনছুর নিহত আলীর চিকিৎসার জন্য টাকা পাঠান আলীর ভাবী তসলিমার কাছে। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেন লাইনম্যান মনসুর ।

আলীর ভাবী তসলিমা আক্তার জানান, আলী কাজের সুবাধে ঈদগাঁও থাকত, বেশ কিছুদিন তার খোঁজ খবর না থাকার কারণে আমরা গত ৭ সেপ্টেম্বর সকালে খোঁজ করতে বের হলে একজন রিক্সাওয়ালা জানান সে ঈদগাঁওতে রয়েছে।

তাৎক্ষনিক তাকে নিয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারি আমার দেবরকে জসিম ড্রাইভারের নেতৃত্বে আরো ক’জন মিলে গাড়ির ব্রেক অয়েল খাইয়ে দেয় জোর করে।

তিনি আরো বলেন, আলী মৃত্যর আগে জানিয়েছে জসিম ড্রাইভারসহ তাকে জোর করে ব্রেক অয়েল খাওয়ায় এবং তাকে কয়েকদিন বন্দী করে রাখা হয়।

নিহত আলীর নিকট আত্নীয় শহিদ জানান, আলী গরীব ঘরের সন্তান কি কারণে তাকে এভাবে কৌশলে হত্যা করা হয়েছে তা বুঝে উঠতে পারছি না। নিহত আলীর স্বীকারোক্তি রয়েছে। শনিবার আলীর লাশ ময়নাতদন্ত শেষে তার নিজ বাড়ি ভারুয়াখালিতে নেয়া হয়েছে।

ঈদগাহ লাইনের ইনচার্জ বেলাল উদ্দীন জানান, আলী তাদের স্টাফ নয়। তাকে কে বা কারা হত্যা করেছে তিনি জানেন না।

কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির উল গিয়াস জানান, বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। কেউ যদি আমাদের লিখিত অভিযোগ দেন তবে আমরা আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবো।