আমাদের জীবন ও জীবিকা নির্বিঘ্ন করে চলেছে তরুণরাই: প্রধানমন্ত্রী

CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্কের ইউনিসেফ ভবনে ‘অ্যান ইভনিং টু অনার হার এক্সিলেন্সি প্রাইম মিনিস্টার শেখ হাসিনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তার হাতে এ সন্মাননা তুলে দেন ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর।

ইউনিসেফকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা এই সন্মাননা বাংলাদেশের মানুষ, বিশেষ করে দেশের ও বিশ্বের সব শিশুদের উৎসর্গ করেন।

তিনি বলেন, “লক্ষ লক্ষ তরুণ তাদের দক্ষতা নিয়ে আমাদের জীবন ও জীবিকা নির্বিঘ্ন করে চলেছে। একটি দায়িত্বশীল ও জ্ঞান-ভিত্তিক সমাজ গঠন করতে আমাদের অবিচল পদক্ষেপেরও প্রকাশ করে এই স্বীকৃতি।”

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক তরুণদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অবদানের কথা অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতি পাঁচজনের একজনের বয়স ১৫ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে এবং এক চতুর্থাংশের বয়স ১৪ বছরের নিচে। এই তরুণরা ভবিষ্যতের জন্য তৈরি হচ্ছে, যাতে পরিবার ও সমাজের জন্য কিছু করতে পারে। তাদের জন্য শিক্ষা, কর্মসংস্থান প্রয়োজন।

তরুণদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে ‘ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট পলিসি’ বাস্তাবায়ন, শিক্ষা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ভূমিকার জন্য শেখ হাসিনার সরকারের প্রশংসা করেন ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক।

ইউনিসেফের গুডউইল অ্যাম্বাস্যাডর ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক আবদুল মোমেনও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “এই সম্মান আমার একার নয়, এটি বাংলাদেশের। কারণ বাংলাদেশের জনগণ আমাকে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করেছেন। এ কারণেই আমি তাদের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি ।”

জাতি গঠনে বাংলাদেশের তরুণদের অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের যুবসমাজ জাতির সমস্ত সঙ্কটময় স্থানে সাহসী ভূমিকা পালন করেছে।

“বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বুঝতে পেরেছিলেন যে যুবকদের সম্ভাবনা পূরণ না করে অগ্রগতি সম্ভব নয়।

“আমরা জ্ঞানসম্পন্ন একটি তরুণ প্রজন্ম গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যারা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে এবং জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে সহায়তা করতে পারবে।”

প্রতি বছর ২০ লাখ যুবক বাংলাদেশের শ্রমবাজারে প্রবেশ করে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা দক্ষতা বিকাশের দিকে গুরুত্বের সঙ্গে মনোনিবেশ করেছি এবং যুবকদের যথাযথ জ্ঞান ও দক্ষতাসম্পন্ন করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।”

স্থানীয় ও বিশ্ব বাজারের চাহিদা অনুযায়ী কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার নির্বাচিত ১০০ টি উপজেলায় ১০০ টি কারিগরি স্কুল ও কলেজ  স্থাপন করছে। ধীরে ধীরে দেশের অন্যান্য উপজেলাতেও এ জাতীয় স্কুল ও কলেজ হবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বেকার ও অপ্রশিক্ষিত যুবকদের মানবসম্পদে রূপান্তর করার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

কেউ যেন পেছনে পড়ে না থাকে, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য ধরে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা সাজানোর কথাও শেখ হাসিনা বলেন।

বাংলাদেশের উন্নয়নে, বিশেষ করে শিক্ষার পাশাপাশি শিশু ও নারীদের উন্নয়নে সহায়তার জন্য ইউনিসেফকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়নের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্তকেও সাধুবাদ জানান।

ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান বলেন, শিশু মৃত্যুর হার কমাতে, শিক্ষার হার বাড়াতে এবং লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ‘দুর্দান্ত অগ্রগতি’ অর্জন করেছে।

“আর এই প্রচেষ্টায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।”