আমাদের অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা প্রকাশে খুব দক্ষ: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: আমাদের দেশের সাফল্যের কথা শুনতে হলে আপনাদের বাইরের পত্র-পত্রিকা পড়তে হবে। বাইরের রিসার্চ প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য শুনতে হবে। অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসুর কাছে আমাদের সাফল্যের কথা শুনতে হয়, অমর্ত্য সেনের কাছে আমাদের সাফল্যের কথা শুনতে হয়। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, দেশের উন্নয়নের কথা আমাদের দেশের অর্থনীতিবিদদের কাছ থেকে শুনতে পেলাম না। প্রথাগতভাবে আমাদের অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা প্রকাশে খুব দক্ষ।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম রোববার (২১ আগস্ট) নগরীর ইআরএফ মিলনায়তনে ‘নিউ চ্যালেঞ্জ ইন দ্য ইকোনমি অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের অর্থনীতিবিদরা বলেন, এটা হবে না ওটা হবে না। এটা ব্যর্থ হবে ওটা ব্যর্থ হবে, এসব কথা শুনেছি। আমাদের অর্থনীতিবিদরা সম্মানজনক জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান। প্রথাগতভাবে আশঙ্কা প্রকাশে খুব দক্ষ। আশঙ্কা প্রকাশে দক্ষ বিধায় পদ্মা সেতু নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছেন। কোভিডে ৫ লাখ মানুষ মারা যাবে এই প্রক্ষেপণ করেছেন। আশঙ্কা প্রকাশে দক্ষ বলেই এটা বাস্তবে আসেনি। ১০ শতাংশ হবে কি না জানি না, তবে মূল্যস্ফীতির চাপটা থাকবে।

‘ড. মনসুর একজন দক্ষ অর্থনীতিবিদ। তিনি আইএমএফ-এ দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। উনি বলেছেন, মূল্যস্ফীতির পদক্ষেপ ঠিক নেই। তাহলে আমরা ট্যারিফ কমালাম কেন? অনেকগুলো পণ্যের দাম যাতে কমে আসে। এক্সচেঞ্জ রেটকে আমরা বাগে আনলাম কেন? কয়েকদিন ডলারের বিশাল উত্থান-পতন ছিল। আমাদের আশঙ্কাবাদী অর্থনীতিবিদরা বলে দেশ শ্রীলঙ্কা হয়ে যাবে। শ্রীলঙ্কা যে হচ্ছে না সেটা আমরা সবাই জানি। আইএমএফ বলেছে, বাংলাদেশে সংকট নেই। অর্থনীতির ভালো দিক ও অর্জনগুলো আমাদের অর্থনীতিবিদদের কাছ থেকে শুনি না।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কথাগুলো একটু কড়া হয়ে গেলো। আরও একটা কথা বলি। মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের উপরে যাবে না। তবে অক্টোবরে একটু বেশি হয়, কারণ এই সময় ধান আসে না। শাক সবজির উৎপাদন কমে যায়। আশা করি মূল্যস্ফীতি কমে আসবে।

আগামী মাসে মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআইবি) নির্বাহী পরিচালক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর।

এই প্রেক্ষাপটে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আরও একটা কথা বলতেই হয়, ড. মনসুর বলেছেন আগামী মাসে মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। আসলে আমি বিনয়ের সঙ্গেই বলবো, অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কাকে গুরুতরভাবে নেই না। এর কারণ হলো, আমরা যখন অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা করি তখন একজন দেশীয় অর্থনীতিবিদ লেখেন, সরকার যেভাবে বাজার খোলা রাখছে, লকডাউন দিচ্ছে না, তাহলে ৫ লাখ লোক মারা যাবে। তাই কি গিয়েছে? কেউ বলেছে পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন মানে অর্থনীতি বিপর্যয় ডেকে আনা, মেগা প্রজেক্ট বাদ দিতে হবে। কোনো অর্থনীতিবিদের কাছ থেকে আমরা শুনিনি বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হচ্ছে, জানতে পারলাম বিদেশি জার্নাল থেকে। কোনো অর্থনীতিবিদ বলেননি, বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মধ্য আয়ের দেশ হবে। অথচ শুনলাম, কোভিডকালে দেশে ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ দরিদ্র হবে। সেটা কি বেড়েছে?

তিনি আরও বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত কয়লা মজুত রয়েছে। কিন্তু উত্তোলনের ক্ষেত্রে নানাবিধ সমস্যা আছে। কথা উঠেছিল আমাদের উন্নত মানের কোল থাকায় আমদানিতে যাবো কেন? রাজনৈতিক সরকার সব সময় রাজনৈতিক বিবেচনায় দেখে। কোল উত্তোলনে কৃষি জমি দেবে যায়, অনেক সময় লেক বা খাল হয়ে যায়, যেটা ইংল্যান্ডের নিউ ক্যাসেলে দেখেছি। কয়লা ব্যবহার করার সোজা পথ নেই।

সারের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এক কেজি ইউরিয়ার দাম পড়ে ১১২ টাকা। আগে ১৬ টাকা ছিল, এখন ২২ টাকা করা হয়েছে। তবুও সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে সারে। অনেকে মনে করেন ইউরিয়ায় বোধহয় সব সার। কিছু মূল্য সংযোজন না করলে ভর্তুকি অনেক বেড়ে যাচ্ছিল। এজন্য সরকার কিছুটা সমন্বয় করেছে। আমরা ভর্তুকি ৯ হাজার থেকে বৃদ্ধি করে ১৬ হাজার কোটি টাকা করেছি। সরকার কৃষিকে সব সময় অগ্রাধিকার দেয়। এ খাতে কোনো আপস করে না।

জ্বালানির দাম পুনর্নির্ধারণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণের পরও ভারতের থেকে ২ টাকা বেশি। নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় আমাদের থেকে দাম বেশি। জ্বালানি তেলের দাম খুব বাড়িয়ে ফেলেছি বিষয়টা তেমন নয়। তবে কষ্ট হচ্ছে এটা সত্য। বিশ্ববাজারে যদি জ্বালানি তেলের দাম কমে, তবে সরকার অবশ্যই পুনর্নির্ধারণের কথা ভাববে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পোল্ট্রি খাতে কিছুটা সমস্যা হতে পারে। কারণ এখন অনেক গরম পড়ছে। এতে ডিম উৎপাদন কমে যায়। ৫০০ কোটি টাকা পোল্ট্রিওয়ালারা নিয়ে গেলো, কথাটি ঠিক নয়। কারণ এটা একটা ব্যবসা। এতই যদি লাভ হবে, তাহলে সবাই ডিমের ব্যবসা শুরু করতো। কিছুটা আশঙ্কাবাদী অর্থনীতির ধারায় আমাদের সম্মানিত সাংবাদিকরা আশঙ্কায় ভোগেন। ৫০০ কোটি টাকা নিয়ে গেছে, কথাটা ঠিক নয়।

অর্থ ও বাণিজ্যবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অংশন নেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআইবি) নির্বাহী পরিচালক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর, বাংলাদেশের নিট পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএ’র নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সাবেক প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার নিহাদ কবির, বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের (বিল্ড) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক প্রেসিডেন্ট আবুল কাসেম খান, ইআরএফ সভাপতি শারমীন রিনভী প্রমুখ।