আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর মরদেহ আসছে বৃহস্পতিবার

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলাম লেখক আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর মরদেহ বৃহস্পতিবার ঢাকায় আসছে। এরপর তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’-এর রচয়িতাকে চির নিদ্রায় শায়িত করা হবে।

শনিবার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

আব্দুল মোমেন জানান, সোমবার লন্ডনে সরকারি অফিস খুলবে। সেদিনই তার (আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী) মরদেহ বাংলাদেশে নিয়ে আসার জন্য যুক্তরাজ্যের সরকারি সনদ নেওয়া হবে। তবে সোমবার ও মঙ্গলবার ফ্লাইট নেই। ফ্লাইট আছে বুধবারে। এ কারণে বুধবারের ফ্লাইটে তার মরদেহ নিয়ে আসা হবে। এই ফ্লাইট বৃহস্পতিবার ঢাকায় এসে পৌঁছবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার এ বিষয়ে আলাপ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সবার শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখতে। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও জানান, তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তার স্ত্রীর কবরের পাশেই তাকে সমাহিত করা হবে। এখানে তার জন্য কবরের জায়গা আগে থেকেই সংরক্ষিত আছে। তার স্ত্রীর মৃত্যুর সময়ই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এখানে তার জন্য কবরের জায়গা সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। তিনি তিন মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন। তার আরেক মেয়ে দীর্ঘদিন মরণব্যাধি ক্যান্সারে ভুগে কিছুদিন আগে মারা যান।

১৯৩৪ সালে বরিশালে জন্ম নেওয়া গাফ্‌ফার চৌধুরী ১৯৫৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ অনার্স পাস করে ইত্তেফাক সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার রাজনৈতিক পত্রিকা ‘চাবুক’ এর দায়িত্ব নেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী সরকারের মুখপাত্র ‘জয়বাংলা’য় কাজ করেন গাফ্‌ফার চৌধুরী। ১৯৭৪ সালে অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে চলে যান তিনি। এরপর সেখানেই স্থায়ী হয়ে যান। লন্ডন থেকে দেশের সংবাদপত্রে নিয়মিত কলাম লেখেন তিনি। ‘কালের আয়নায়’ শিরোনামে নিয়মিত কলাম লিখতেন ভাষা সৈনিক গাফ্‌ফার চৌধুরী। কলাম ছাড়াও কবি, নাট্যকার ও ঔপন্যাসিক হিসেবে পরিচিত তিনি। বঙ্গবন্ধু হত্যার ওপর লেখা ‘পলাশী থেকে ধানমণ্ডি’ তার বিখ্যাত নাটক।

১৯৪৬ সালে স্কুলের ছাত্র অবস্থায় কলাম লেখা শুরু করেন আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী। বরিশাল হিতৈষী পত্রিকায় তার প্রথম লেখার শিরোনাম ছিল ‘সমাচার সন্দেশ’। ৬০ বছর ধরে মিঠাকড়া, ভীমরুল, তৃতীয় মত, কাছে দূরে, একুশ শতকের বটতলায়, কালের আয়নায়, দৃষ্টিকোণ ইত্যাদি শিরোনামে কলাম লিখেছেন তিনি।

১৯৫০-এর দশকে সাংবাদিকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পেশাগত কাজে সফলতার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পদক, ইউনেস্কো পুরস্কার, বঙ্গবন্ধু পুরস্কার, মানিক মিয়া পদকসহ দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক পদক ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।