আফিফের অপরাজিত ইনিংসে বাংলাদেশের স্কোর ২৫৬

আফিফ হোসেন
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: ২০১৩ সালের মে মাসে বাংলাদেশকে সর্বশেষ সিরিজে হারিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। এবার তো হোয়াইটওয়াশ চোখ রাঙাচ্ছে। সেই লজ্জা এড়ানোর লড়াইয়ে শেষ ওয়ানডের সংগ্রহটা হয়নি প্রত্যাশা মতো। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশ ৯ ‍উইকেটে করতে পেরেছে ২৫৬ রান। ভুলে গেলে চলবে না প্রথম দুই ম্যাচে প্রায় তিনশোর কাছাকাছি স্কোর করেও তামিমরা হেরে গিয়েছিল!

ভালো শুরুর পরেও এক পর্যায়ে ৮ বলের মাঝে পড়ে যায় ৩ উইকেট। প্রাথমিক ধাক্কার পর এনামুল হক বিজয়ের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং একটা পর্যায়ে নিয়ে যায় সফরকারীদের। ৭১ বলে করেছেন ৭৬ রান। মাহমুদউল্লাহ ৬৯ বলে ৩৯ রানে অবদান রাখলেও সেটি ছিল মন্থর গতির। তার পর শেষ দিকে স্কোরবোর্ড সমৃদ্ধ করার একক কৃতিত্ব আফিফ হোসেনের। ৮১ বলে ৮৫ রানে অপরাজিত ছিলেন।

প্রথম দুই ওয়ানডে হেরে যাওয়ার পর আজ দশম দল হিসেবে ৪০০তম ম্যাচ খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। টানা তৃতীয় ম্যাচে টস হেরে দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও এনামুল হক বিজয় দেখে শুনে ব্যাটিংয়ের শুরুটা করেছিলেন। আগের দুই ওয়ানডেতে ফিফটি করা তামিম স্কোরবোর্ড সচল রাখার দায়িত্ব কাঁধে নেন শুরু থেকেই। বিজয় অবশ্য দেখে শুনে সময় নিয়ে হাত খুলেছেন। ছন্দপতন ঘটে নবম ওভারে। এনগারাভার বলে রান নেওয়ার ইঙ্গিতটা দেন বিজয়। তামিমও সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দেন তাতে। কিন্তু বলটা ফিল্ডারের কাছে পড়ায় শেষরক্ষা হয়নি অধিনায়কের। বিজয়ের ভুল কলে ৩০ বলে ১৯ রান করা তামিম প্রান্তে পৌঁছানোর আগেই এনগারাভা স্টাম্প ভেঙেছেন।

সফরকারীদের মোমেন্টাম বদলে যায় তার পরেই। দশম ওভারে চোখের পলকে জোড়া আঘাতে আরও দুই উইকেট তুলে নেন ব্র্যাড ইভান্স। ৯.১ ওভারে নাজমুল হোসেন শান্তকে (০) ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে তালুবন্দি করিয়েছেন এই পেসার। চতুর্থ বলে বিপদ বাড়িয়ে দেন মুশফিক নিজেই। শর্টার লেংথের বলে অযথা আপার কাট করতে গিয়ে দারুণ এক ক্যাচে পরিণত হন এনগারাভার।

এর পর অবশ্য পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে খেলতে থাকেন বিজয়। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে তুলে নেন ক্যারিয়ারের পঞ্চম ফিফটিও। তার লড়াইয়ে পাশে থাকেন মাহমুদউল্লাহ। দুজনে মিলে শুরুর ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন ২৪ ওভার পর্যন্ত। লড়াইটা স্থায়ী ছিল এই পর্যন্তই। বিজয় আগ্রাসী ইনিংসটাকে শতকে রূপ দিতে পারেননি। লুক জঙ্গোয়ের বলে ৭৬ রানে গ্লাভসবন্দি হয়েছেন। তার ৭১ বলের ইনিংসে ছিল ৬ চার ও ৪টি ছয়।

বিজয় ফিরলেও ধীর গতির ব্যাটিংয়ে প্রান্ত আগলে ছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। নতুন করে আফিফকে সঙ্গে নিয়ে ৪৯ রানের জুটি গড়েন। কিন্তু তুলনায় মাহমুদউল্লাহ ছিলেন খুবই ধীরস্থির। ৬৯ বলে মাত্র ৩ চারে ৩৯ রান করা এই অলরাউন্ডার শেষ পর্যন্ত বিদায় নেন বোল্ড হয়ে। এনগারাভার অফস্টাম্পের বাইরের বল টেনে খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়েছেন।

আফিফ তার পর মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে শেষটা গোছানোর চেষ্টা করেন কিছুক্ষণ। জুটিও গড়েন ৩৩ রানের। সম্ভাবনাময় জুটিটা ভেঙে যায় মিরাজ লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়লে। অধিনায়ক সিকান্দার রাজার গুড লেংথের বল মিরাজ এগিয়ে এসে খেলতে চেয়েছিলেন। বল প্যাডে লাগলে আবেদন করেন রাজা। আম্পায়ারও আঙুল তুলে দিলে ২৪ বলে ১৪ রানে শেষ হয় মিরাজের ইনিংস। ততক্ষণে দারুণ ব্যাটিংয়ে তৃতীয় হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন আফিফ।

লেজের দিকে তাইজুল, হাসান মাহমুদ, মোস্তাফিজ দ্রুত ফিরলেও আফিফ-ই স্কোরবোর্ডটা টেনে আড়াইশো ছাড়িয়েছেন। স্কোরটা চ্যালেঞ্জিং পর্যায়ে নিতে ৬টি চারের সঙ্গে মেরেছেন ২টি ছয়ও।

জিম্বাবুয়ের হয়ে ৩৮ রানে দুটি উইকেট নিয়েছেন লুক জঙ্গোয়ে। ৫৩ রানে দুটি নেন ব্র্যাড ইভান্সও। একটি করে নিয়েছেন রিচার্ড এনগারাভা ও সিকান্দার রাজা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ৫০ ওভারে ২৫৬/৯ (এনামুল হক ৭৬, মাহমুদউল্লাহ ৩৯, আফিফ ৮৫*; জঙ্গোয়ে ২/৩৮, ইভান্স ২/৫৩)