আত্মপ্রকাশ হচ্ছে ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’ নামের নতুন জোট

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আ স ম আবদুর রবের জেএসডিসহ সাতটি রাজনৈতিক দল মিলে নতুন জোট হচ্ছে। ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’ নামে এ জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতে পারে চলতি মাসেই। আপাতত সাতটি দল থাকলেও ভবিষ্যতে পরিধি আরও বাড়ানো হবে।

এ নিয়ে মঙ্গলবার (১০ মে) সকালে রাজধানীর হাতিরপুলে গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাত দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক হয়। তারা নতুন জোটের নাম নির্ধারণ, কাঠামো, কর্মসূচি প্রণয়ন, অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে সংযুক্তিসহ নানা কর্মকৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। ২৩ মে পরবর্তী বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

সাত দলে জেএসডি ছাড়াও অন্য রয়েছে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, নাগরিক ঐক্য, গণঅধিকার পরিষদ, ভাসানী অনুসারী পরিষদ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও গণসংহতি আন্দোলন।

সূত্র জানায়, চার ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার বিষয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এ সাতটি রাজনৈতিক দল। পাশাপাশি বর্তমান সরকারের পদত্যাগ এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে সুষ্ঠু অবাধ ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে একমত হয়েছেন দলগুলোর শীর্ষ নেতারা।

বৈঠকে অংশ নেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর, ভাসানী অনুসারী পরিষদের সভাপতি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের হাসনাত কাইয়ূম প্রমুখ।

এর আগে ২৮ এপ্রিল রাজধানীর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে এ সাত দলের প্রথম বৈঠক হয়। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমরা কতগুলো বিষয় চিহ্নিত করে একমত হয়েছি। এ সরকারের অধীনে নির্বাচন নয়, তাদের পদত্যাগ করতে হবে। তারপর একটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করবে। এখন কীভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হবে, কতদিন মেয়াদ হবে-এসব বিষয়ে আমরা সাংবিধানিক দিকগুলোও খতিয়ে দেখছি। পরের বৈঠকগুলোতে এ নিয়ে আরও আলোচনা হবে।

নতুন জোট গঠন নিয়ে সংশ্লিষ্ট নেতারা জানান, সরকারবিরোধী আন্দোলনে এ জোট বিএনপির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ না হলেও যুগপৎভাবে দাবি আদায়ে রাজপথে কর্মসূচি দেবে। তবে সাত দলের সমন্বিত দাবিগুলোর প্রতি কোনো দল একমত প্রকাশ করে যোগ দিতে চাইলেও ধর্মভিত্তিক কোনো সংগঠনকে যুক্ত করবেন না। সেক্ষেত্রে জামায়াত বা এ ধরনের কোনো সংগঠনকে জোটে রাখা হবে না।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, নির্বাচন ও শাসনতন্ত্র প্রশ্নে ন্যূনতম কর্মসূচি, নাম ও কাঠামো এবং অন্যদের সংযুক্তির বিষয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। পরবর্তী বৈঠকে রাজপথের কর্মসূচি বিষয়ে আলোচনা হবে।

ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, অবিলম্বে মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবিতে সাত দল একমত হয়েছে। এ ঐক্যকে আরও বৃহত্তর ঐক্য হিসাবে গড়ে তোলার জন্য আমরা কাজ করব।

গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর বলেন, আমরা এখন নাম চূড়ান্ত করে, আট-দশটি দাবি নির্ধারণ করে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। দেশ-জাতির প্রয়োজনে এ মঞ্চ। তবে আমরা আক্রমণাত্মক নয়, সহনশীলভাবে এগিয়ে যেতে চাই। এদিকে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে বিএনপির বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া শুরুর মধ্যে এ সাত দলের রাজনৈতিক জোট নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন নীতিনির্ধারক বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অবস্থানের সঙ্গে সরকারবিরোধী সব রাজনৈতিক দলেরই মিল রয়েছে। বর্তমান সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচন নয়, ইতোমধ্যে এমন মত জানিয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। এমনকি সরকার পতনের জন্য আন্দোলনে যেতেও একমত সবাই। এখন এ বিষয়ে যার যার জায়গা থেকে যে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করতেই পারে, তাতে দোষের কিছু নেই।