আজ বিশ্বকাপ ফুটবলের পর্দা উঠছে

জমকালো উদ্বোধনীর পর মুখোমুখি কাতার-ইকুয়েডর

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: চার বছরের অপেক্ষার শেষে আজ শুরু হচ্ছে ফুটবলের মহাযজ্ঞ ‘ফিফা বিশ্বকাপ ২০২২’। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে ফুটবল বিশ্বে সেরা হওয়ার লড়াইয়ে নামবে ৩২টি দল। আল বায়াৎ স্টেডিয়ামে আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামবে স্বাগতিক কাতার ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডর।

এর আগে রাত ৮টায় শুরু হবে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করবে বেসরকারি টিভি চ্যানেল গাজী টিভি ও টি- স্পোর্টস।

আজ থেকে শুরু হয়ে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে বিশ্বকাপের এই উন্মাদনা। মেসি, নেইমার, রোনালদো, এমবাপে, হ্যারি কেইনদের মতো তারকা ফুটবলারদের ক্রীড়াশৈলীতে মুগ্ধ হবে পুরো বিশ্ব।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমেরিকান গায়ক ডমিনিক লিল ববি ও বলিউড সুপারস্টার নোরা ফাতেহিসহ চমক আছে বিটিএস ফ্যানদের জন্য। এবারের আসরের থিম সং ‘দ্য ওয়ার্ল্ড ইজ ইওরস টু টেক’ গাইবেন ববি। গানের সঙ্গে মঞ্চ মাতাবেন মানাল, রেহমার এবং নোরা ফাতেহি। এই মুহূর্তে বলিউডের সেরা নৃত্যশিল্পীদের তালিকায় রয়েছেন নোরা। এর বাইরে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে তুমুল আলোচনা-সমালোচনার কোরিয়ান ব্যান্ড বিটিএসের সংগীত পরিবেশনাও থাকবে। ব্যান্ডটির সর্বকনিষ্ঠ সদস্য জন জাংকুক গাইবেন উদ্বোধনী মঞ্চে। এ ছাড়া স্থানীয় নৃত্যশিল্পীরাও আল বায়াত স্টেডিয়ামে পারফর্ম করবেন।

কাতার বিশ্বকাপের অফিসিয়াল মাসকট লাইব এর প্রদর্শনীও চলবে। সঙ্গে থাকবে আতশবাজির ঝলকানি। বিশ্বকাপে কাতারেরও এটি প্রথম অংশগ্রহণ। স্বাগতিক হিসেবে কাতার সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে।

অন্যদিকে, আট বছর অনুপস্থিত থাকার পর বিশ্বকাপে ফিরেছে ইকুয়েডর। কাগজে কলমে কাতারের থেকে বেশ খানিকটা এগিয়ে রয়েছে ইকুয়েডর। যে কারণে ম্যাচটিতে জয়ের সম্ভাবনায়ও এগিয়ে রয়েছে সফরকারীরা। দক্ষিণ আমেরিকান বাছাইপর্বে কঠিন চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে ইকুয়েডর চতুর্থ স্থান লাভ করে কাতারের টিকেট কেটেছে।

ইকুয়েডরের আক্রমণভাগের নেতৃত্বে আছেন অভিজ্ঞ দুই উইঙ্গার এনার ভ্যালেন্সিয়া ও ইয়ারি মিনা। এছাড়াও দলটায় আছেন উঠতি প্রজন্মের সম্ভাবনাময় কয়েকজন তরুণ যারা ইউরোপের মাঠ মাতাচ্ছে। লা লিগার দল ভায়াদোলিদের গঞ্জালো প্লাতা, প্রিমিয়ার লিগের দল ব্রাইটনের মইজে কাইসিদো এবং বুন্দেস লিগার দল বেয়ার লেভারকুসেনের পিয়েরো হিনকাপি তাদের অন্যতম।

এদিকে স্বাগতিক হিসেবে ঘরের মাঠের বাড়তি সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগাতে কাতারও প্রস্তুত। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাগতিক দল পরাজিত হয়নি। ইতিহাস এদিক থেকে কিছুটা হলেও কাতারের পক্ষে রয়েছে। ১৯৭৮ সালের পর বিশ্বকাপে উদ্বোধনী কোন ম্যাচ গোলশূন্যভাবে শেষ হয়নি। কাতার এখন পর্যন্ত টানা পাঁচ ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে। সেপ্টেম্বরে চিলির সাথে ২-২ গোলে করার পর একে একে কাতার হারিয়েছে গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, পানাম ও আলবেনিয়াকে। এসবই কাতারকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস যোগাচ্ছে।

গত পাঁচ বছর ধরে স্প্যানিশ কোচ ফেলিক্স সানচেজ বাসের অধীনে কাতার নিজেদের ধীরে ধীরে প্রস্তুত করেছে। এতো বড় আসরে অতীতে খেলার অভিজ্ঞতা না থাকায় অনেক কিছুতেই তাদের মানিয়ে নেওয়াটাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কাতারের লক্ষ্য স্বাগতিক হিসেবে নিজেদের সেরাটা দিয়ে যতটা সম্ভব সবাইকে আকৃষ্ট করা, ভালো খেলা উপহার দেওয়া।

অক্টোবরের চারটি প্রীতি ম্যাচের জয় কাতারকে দারুণ আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। শেষ ম্যাচে আলবেনিয়ার বিপক্ষে একমাত্র গোলটি করেছিলেন তারকা স্ট্রাইকার আলমোয়েজ আলি। দেশের হয়ে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৪২ গোল করেছেন আলি। ২০০২ সালে ওই সময়কার চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে হারিয়ে সেনেগাল উদ্বোধনী ম্যাচে অভিষিক্ত দল হিসেবে যে রেকর্ড গড়েছিল তার পুনরাবৃত্তি করতে চায় কাতার। কাতার এর আগে তিনবার ইকুয়েডরের বিপক্ষে ঘরের মাঠে খেলেছে, যার মধ্যে একটিতে জয়, একটি ড্র ও একটি পরাজিত হয়েছে।