আগামী সপ্তাহেই দ্বাদশ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৩ সালের ডিসেম্বর অথবা ২০২৪ সালের জানয়ারির প্রথম সপ্তাহে হতে পারে। নির্বাচনে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে সশস্ত্র বাহিনী। ইভিএমে কারচুপির প্রমাণ মিললে এই যন্ত্রে ভোট হবে না। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামী ভিন্ন নামে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করলেও তা গ্রাহ্য করা হবে না। নির্বাচনে সেনাবাহিনীর সহায়তা চেয়ে সরকারকে অবহিত করা হবে।

সোমবার (২৯ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান।

এছাড়া চলতি সপ্তাহে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রকাশ করা হবে বলেও কমিশনের একটি সূত্র জানায়।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর। সংবিধান অনুযায়ী ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারির মধ্যে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। আগামী বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ অথবা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ভোটের সম্ভাব্য সময় ধরে প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছেন কমিশনার মো. আলমগীর। এ বিষয়ে সরকারকে অবহিত করবেন বলেও জানান তিনি।

সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনা করতে ইসির পদক্ষেপের বিষয় জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেন, ‘কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে টহল দেবে। সাধারণত যেসব নির্বাচনী এলাকা ও কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, সেসব এলাকার তালিকা করে র‌্যাব, বিজিবি, সেনাবাহিনীর কাছে তথ্য প্রদান করে নির্বাচন কমিশন। সেগুলোর তালিকা দেখে পর্যালোচনা করে তারা সেনা, র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়। কমিশন সেই কাজগুলো শিগগিরই করবে।’

দেশের প্রচলিত আইনে বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনা মোতায়েন ‘কভার’ করে না জানিয়ে সেক্ষেত্রে আইন পরিবর্তন করার কথাও জানান এই নির্বাচন কমিশনার। মো. আলমগীর বলেন, ‘যিনি ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন, তার হাতে বিচারিক ক্ষমতা থাকে না। মূল কথা হলো- আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী সহযোগিতা করবে। তাতে আমরা একমত হয়েছি। কিন্তু প্রতিটি কেন্দ্রে সেনাবাহিনী দেওয়া সম্ভব নয়। তবে আমরা সরকারের কাছে এসব বিষয়ে বিস্তারিত প্রস্তাব করব।’

ইভিএমে কারচুপি নিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার এর আগে বলেছিলেন, ‘ইভিএমে কারচুপি করা সম্ভব, ত্রুটিপূর্ণ ইভিএমে ভোট করার সিদ্ধান্ত সরকারের দুরভিসন্ধির অংশ।’

তার এই বক্তব্যের বিষয়ে ইসি আলমগীর বলেন, ‘যিনি ইভিএমে কারচুপির বিষয়ে কথা বলছেন, তাকে ইসিতে এসে প্রমাণ করতে হবে। তিনি যদি প্রমাণ করতে পারনে তাহলে আমরা ইভিএম ভোটিং বাতিল করব।’

এদিন মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সংগঠন ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ হিসেবে নাম পরিবর্তন করলেও রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের নিবন্ধনের সুযোগ নেই বলে জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর। তিনি বলেন, ‘ভিন্ন নামে এলেও জিনিস তো একই। জামায়াতের গঠনতন্ত্র সংবিধানের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।’

ইসি আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্বাধীনতার বিরোধিতা করা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করেছে আদালত। তাই জামায়াতের নাম পরিবর্তন করে ভিন্ন কোনো নামে এলেও রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের নিবন্ধন পাওয়ার সুযোগ নেই। তবে নিবন্ধনের জন্য আদালত পুনরায় আদেশ দিলে জামায়াত নিবন্ধন করতে পারবে। সে আদেশ অবশ্য মানতে হবে।’

নির্বাচনে স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন, অর্থ মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়সহ পাঁচ থেকে ছয়টি মন্ত্রণালয়কে ইসির অধীনে নিয়ে আসার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো যে প্রস্তাব দিয়েছে- সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইসির অধীনে মন্ত্রণালয় আনার প্রয়োজন নেই। এতে জনগণের সেবা বিঘ্নিত হবে। তাদের কষ্ট দেওয়া ছাড়া অন্য কিছু হবে না। তবে নির্বাচনের সময় তারা সহযোগিতা করবে। তারা সেটা দিতে বাধ্য। এগুলো আইনে আছে।’

মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির কাছ থেকে ইভিএম নেয় ইসি। ১৫০ আসনে ইভিএমে ভোটের বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের একটি সূত্র জানায়, ওই প্রতিষ্ঠানটিও বিদেশ থেকে এসব মেশিন আমদানি করে। ফলে ইমভিএমে ভোট করতে হলে ইসিকে শিগগিরই এ সংক্রান্ত পরিকল্পনা শুরু করতে হবে। যথাসময়ে পরিকল্পনা করতে পারলে ১৫০ আসনে ইভিএমে ভোট সম্ভব বলে মনে করে কমিশন।

এদিকে সোমবার নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি। ইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ইতো নাওকি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি কেমন তা জানার জন্য। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তারা কী প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাই আলোচনা করেছি। ইভিএম নিয়ে সিইসি বলেছেন তারা কীভাবে এই সিস্টেমটি ডেভেলপড করেছেন। আমরা মনে করি ইভিএম নিয়ে তারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা সুষ্ঠু নির্বাচনে সহায়ক হবে।’

বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে আশা প্রকাশ করে নাওকি বলেন, ‘নির্বাচনের এখনো এক বছর তিন-চার মাস বাকি আছে। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি প্রত্যাশা থাকবে- আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অধিক অংশগ্রহণমূলক করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখবে তারা। আমরা আশা করি, আগামী নির্বাচন একটি ভালো নির্বাচন হবে, এটাই আমার আশা ও প্রত্যাশা।’