আইন অমান্য করে নগরীতে চলছে কৌশলে পুকুর ভরাটের মহোৎসব (ভিডিওসহ)

পূর্ব ফরিদা পাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন পুকুর প্রকাশ মসজিদ পুকুর ও পূর্ব ফরিদা পাড়া মাজার গেইট সংলগ্ন পুকুর(দিঘী)
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

আইন অমান্য করে নগরীতে চলছে কৌশলে পুকুর ভরাটের মহোৎসব।

নগরীর ফরিদাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যাক্তি মালিকানাধীন শতবর্ষী পুকুরগুলো কৌশলে ভরাট হয়ে যাচ্ছে ।

কোথাও ময়লা ফেলে, কোথাও সংস্কার না করে আবার কোথাও ছোট দোকান ঘর তুলে পুকুরগুলো ভরাট করা হচ্ছে।

শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে পুকুর ভরাট পরিদর্শনে গিয়ে সিপ্লাসটিম দেখতে পায়, নগরীর চান্দগাঁও এলাকার পূর্ব ফরিদা পাড়ায় ,পূর্ব ফরিদা পাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন পুকুরসহ দুটো পুকুর,পূর্ব ফরিদা পাড়া মাজার গেইট সংলগ্ন পুকুরসহ শতবর্ষী চারটি পুকুরগুলো কৌশলে ভরাট করা হচ্ছে ।

পুকুরগুলো বাইরে থেকে দেখলে এখন আর পুকুর মনে হয় না। মনে হয় আবর্জনার ভাগাড় নয়তো ছোট খাট জঙ্গল ।

স্থানীয়রা কৌশলে পুকুর ভরাট নিয়ে সিপ্লাসকে বলেন, এই পুকুর আমাদের প্রকৃতির ধারক ও বাহক। দিন দিন কৌশলে ভরাট হয়ে বিলীন হওয়ার পথে পুকুর । পরিবেশ অধিদপ্তরকে বিষয়টি জানানোর পরও তারা কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না। বরং তারা পুকুর পরিদর্শনে এসে পুকুর মালিকদের সাথে দেখা করে চলে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা ওসমান সিপ্লাসকে বলেন, সরকারী নিষেধাজ্ঞা সত্বেও কিভাবে কৌশলে পূর্ব ফরিদা পাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন মসজিদ প্রকাশ মসজিদ পুকুরসহ দুটো পুকুর ভরাট হয়ে যাচ্ছে যা দেখার কেউ নাই। আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আবেদন করলেও এর কোন সুফল পায়নি। এবার প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় বরাবর আবেদন করার অপেক্ষায় আছি।

জানতে চাইলে,পূর্ব ফরিদা পাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন মসজিদ পুকুরের এক অংশীদার জানান, পুকুরটি এমনিতে ভরাট হয়ে যাচ্ছে।সরকারের প্রয়োজন হলে পুকুর কিনে নিয়ে তার সৌর্ন্দয্য অটুট রাখতে পারে। অন্যদিকে চান্দগাঁও থানার পূর্বষোলশহর ওয়ার্ডের ইয়াছিন হাজীর বাড়ীর পুকুর, বাড়াইপাড়া (দক্ষিন) মসজিদ সংলগ্ন পুকুরসহ অনেক পুকুর কৌশলে ভরাট হতে চলছে।

সূত্রমতে, ২০০০ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা এক আদেশে বলা হয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও জনগণের আশ্রয়স্থল রক্ষা করতে কোনও অবস্থায় খাল, বিল, পুকুর-নালাসহ প্রাকৃতিক জলাশয় ভরাট করা যাবে না। জনস্বার্থে এর ব্যতিক্রম করতে হলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুমতি নিতে হবে। অনুমতি ছাড়া নিজের মালিকানাধীন পুকুরও ভরাট করা যাবে না।

বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম সাধারণ সম্পাদক আলীউর রহমান সিপ্লাসকে বলেন,পুকুর ভরাটের মহোউৎসবে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভুমিকা দেখছিনা। আমরা আশা করবো শীঘ্রই এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তর তড়িৎ ভুমিকা গ্রহণ করবেন।

চট্টগ্রাম কলেজ রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. নুকম আকবর হোসেন সিপ্লাসকে বলেন, যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পুকুর রক্ষা ও নতুন পুকুর খননের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাতে তার ন্যায্যতা নিয়ে আর কিছু বলার থাকেনা। এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরের সু নজরে দেওয়া উচিত।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এপ্লাইড এন্ড এভাইরনমেন্টাল কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ হেলাল সিপ্লাসকে বলেন নদী খেকো, বন খেকো দেখছি এখন নতুন মাত্রায় যোগ হয়েছে পুকুর খেকো। পরিবেশ অধিদপ্তর এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। নয়তো পুকুর আর পুকুর থাকবেনা।

পরিবেশ আন্দেলনের নেতা পরিবেশবিদ অধ্যাপক ড.মো.ইদ্রিস আলী সিপ্লাসকে বলেন, কৌশলে পুকুর ভরাটের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগরের নিরব ভূমিকা দায়ী। তিনি আশা করেন পরিবেশ অধিদপ্তর কৌশলে পুকুর ভরাট বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে । পাশাপাশি পুকুর মালিকদের পুকুর সংস্কারে চাপ প্রয়োগ করে পরিবেশ রক্ষায় যথাযথ ভূমিকা রাখবে।

পুর্ব ফরিদাপাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন প্রকাশ মসজিদ পুকুর ভরাট থেকে রক্ষায় স্থানীয়রা,পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগরের পরিচালক,চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র. চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, সিএমপি কমিশনার, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক, ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কতৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত আবেদন করলেও এর কোন সুফল পায়নি বলে জানান স্থানীয়রা।

এ প্রসঙ্গে জানতে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগরের পরিচালক আজাদুর রহমান মল্লিক কাছে যোগাযোগ করলে, তিনি ক্যামরার সামনে কোন মন্তব্য করার অনুমতি নাই বলে জানান। তবে কেউ পুকুর ভরাটের অভিযোগ কিংবা কোন সংবাদ মাধ্যম পুকুর ভরাট নিয়ে প্রতিবেদন করলে তা দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।