আইন অমান্য করে চলছে প্রকাশ্যে পুকুর ভরাটের উৎসব

CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

আইন অমান্য করে  প্রকাশ্যে পুকুরের উপর দোকান নির্মাণসহ বিভিন্ন স্থাপনা তৈরী করে নগরীর পূর্ব ফরিদা পাড়ায় চলছে পুকুর ভরাটের উৎসব। প্রকাশ্যে পুকুর ভরাট, পরিবেশ অধিদপ্তরের গাফেলাতিকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।

গত ৭ সেপ্টেম্বর দর্শক  জনপ্রিয় অনলাইন সিপ্লাসটিভিতে ‘‘আইন অমান্য করে নগরীতে চলছে কৌশলে পুকুর ভরাটের মহোৎসব’’ শিরোনামে সংবাদ প্রচারের পর, নগরীর বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্নজন পুকুর ভরাটের তথ্য নিয়ে সরাসরি সিপ্লাসটিভি অফিসে এসে আবার কেউ কেউ সিপ্লাসটিভির ম্যাসেঞ্জার যোগাযোগ করে প্রতিবেদনের মধ্যেমে প্রতিকার চাইছেন। তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১০সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে সিপ্লাসটিম পুকুর ভরাট পরিদর্শন করলে  দেখা যায়, নগরীর চান্দগাঁও এলাকার পূর্ব ফরিদা পাড়া  উমর মিয়া কন্ট্রাকটার’র বাড়ি সংলগ্ন  তিনটি পুকুরের উপর দোকান নির্মাণ করে অনায়াসে  পুকুর ভরাট করে চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা  এইভাবে পুকুর ভরাট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুকুর আর পুকুর থাকছেনা। প্রকাশ্য দিবালোকে পুকুর ভরাট চলছে, যেন কেউ দেখার নেই। পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর প্রকাশ্যে পকুর ভরাটের জন্য দায়ী। পরিবেশ অধিদপ্তর অতিসত্বর এ ব্যাপারে সুনজর না দিলে, আর কিছুদিন পর পুকুর দেখতে হলে যাদুঘরে গিয়ে দেখতে হবে।

তারা আরো বলেন, পুকুর ভরাট রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রায় সব দপ্তরে আবেদন করেও এর কোন সাড়া পায়নি।

সূত্রমতে, ২০০০ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা এক আদেশে বলা হয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও জনগণের আশ্রয়স্থল রক্ষা করতে কোনও অবস্থায় খাল, বিল, পুকুর-নালাসহ প্রাকৃতিক জলাশয় ভরাট করা যাবে না। জনস্বার্থে এর ব্যতিক্রম করতে হলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুমতি নিতে হবে। অনুমতি ছাড়া নিজের মালিকানাধীন পুকুরও ভরাট করা যাবে না।

পূর্ব ফরিদা পাড়ায়  উমর মিয়া কন্ট্রাকটার’র বাড়ির এই তিনটি পুকরের বেশীর ভাগ অংশের মালিক একরাম মিয়ার ছেলে ফুরকান উদ্দিন। তার সাথে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি । তবে বেশীরভাগ স্থানীয়রা জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরকে ম্যানেজ করে ভুমিদুস্য ও এই পুকুর খেকো প্রকাশ্যে পুকুর ভরাটের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম সাধারণ সম্পাদক আলীউর রহমান সিপ্লাসকে বলেন, পুকুর শুধু পুকুর নয়, মাছ উৎপাদন, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও অগ্নি নির্বাপণে বিশেষ ভুমিকা রাখে। আশা করছি, পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

চট্টগ্রাম কলেজ রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. নুকম আকবর হোসেন সিপ্লাসকে বলেন,  পরিবেশ অধিদপ্তর পুকুর ভরাট রুখতে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে পকুর ভরাট রুখা এখন সময়ের দাবী। শীঘ্রই এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরের সুনজরে দেওয়া উচিত।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এপ্লাইড এন্ড এভাইরনমেন্টাল কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ হেলাল সিপ্লাসকে বলেন, পুকুর ভরাট হয়ে যাওয়ার জন্য আজকে সামান্য বৃষ্টিতে নগরী জলবদ্ধতায় রুপ নেয়। পুকুর ভরাট রুখতে, পরিবেশ অধিপ্তরের ভুমিকা অপরিসীম বলেও মনে করেন তিনি।।

পরিবেশ আন্দেলনের নেতা পরিবেশবিদ অধ্যাপক ড.মো.ইদ্রিস আলী সিপ্লাসকে বলেন,পুকুর ও দীঘি সংস্কৃতির একটি অংশ। আর এই সংস্কৃতির অংশকে পুকুর খেকোরা ধ্বংসের পায়তারা করছে। পুকুর দিঘী না থাকলে প্রকৃতির ভারসাম্য হারাবে। এটা রক্ষায় আমাদের সবাইকে স্ব-স্ব অবস্থান থেকে সোচ্চার হওয়া এখন সময়ের দাবী বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে জানতে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগরের পরিচালক আজাদুর রহমান মল্লিক কাছে যোগাযোগ করলে, তিনি ক্যামরার সামনে কোন মন্তব্য করার অনুমতি নাই বলে জানান। তবে কেউ পুকুর ভরাটের অভিযোগ কিংবা কোন সংবাদ মাধ্যম পুকুর ভরাট নিয়ে প্রতিবেদন করলে তা দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।