‘অস্পষ্টতা’ কাটাতে ফের পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে লোকমান

CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

মোহামেডান ক্লাবের অবৈধ ক্যাসিনো বন্ধের পর গত ২৬ সেপ্টেম্বর লোকমানকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। চার বোতল বিদেশি মদ বাসায় পেয়ে তার বিরুদ্ধে হয় মামলা।

ওই মামলায় ২৭ সেপ্টেম্বর তাকে দুদিন হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করে তেজগাঁও থানা পুলিশ। রিমান্ডে তিনি ‘চতুরতা’ করছেন দাবি করে তাকে আরও দুদিন হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফের আদালতের অনুমতি নেওয়া হয়।

দ্বিতীয় মেয়াদে জিজ্ঞাসাবাদের সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার লোকমানকে ঢাকার আদালতে নিয়ে যান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার এসআই  মুহাম্মদ কামরুল ইসলাম। আবেদন করেন আসামিকে আরও পাঁচ দিন হেফাজতে রাখার।

তার আবেদনে বলা হয়, “আসামিকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ওই আসামির নিয়ন্ত্রাণাধীন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ক্যাসিনোতে অবৈধভাবে ব্যাপক পরিমাণ বিদেশি মদ, হুইস্কি আসামির নির্দেশমতে বিভিন্নভাবে সরবরাহ ও বিক্রি করা হত। জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনা সংক্রান্তে কিছু তথ্য প্রদান করেছেন, যা যাচাই-বাছাই চলছে।

“এছাড়া আসামি মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ক্যাসিনো সংক্রান্ত কিছু অস্পষ্ট তথ্য প্রদান করেছেন। তাই আসামিকে পুনরায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে তার পরিচালিত ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত অন্য প্রকৃত অপরাধীদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।”

রিমান্ড আবেদনের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন সহকারী পাবিলিক প্রসিকিউটর আজাদ রহমান। অন্যদিকে লোকমানের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন ফকির, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ব্যারিস্টার ঈসমাইল।

তারা বলেন, চার বোতল মদ রাখার সাজা ৬ মাস থেকে ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, যা জামিনযোগ্য। তাই এ ধরনের মামলায় রিমান্ড আবেদনই অযৌক্তিক।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন আবেদন নাকচ করে লোকমানকে আরও দুদিন হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন ঢাকা মহানগর হাকিম শাহিনুর ইসলাম।

গত ২১ সেপ্টেম্বর র‌্যাবের অভিযানে মতিঝিলের ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান ক্লাবে ক্যাসিনোর সন্ধান পাওয়া যায়। ওই ক্লাবে দুটি রুলেট টেবিল, নয়টি বোর্ড, বিপুল পরিমাণ কার্ড, ১১টি ওয়্যারলেস সেট ও ১০টি বিভিন্ন ধরনের চাকু জব্দ হয়।

ক্রীড়া ক্লাবটির ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডেরও পরিচালক। তিনি মোহামেডানের অবৈধ ক্যাসিনো থেকে আয়ের ৪১ কোটি টাকা অস্ট্রেলিয়ায় পাচার করেছেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি।